তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার ভূমিকা: যেভাবে তৈরি হয় কুয়াশা (Mechanism of Fog Formation)
বাতাসে সর্বদাই অদৃশ্য জলীয় বাষ্প (Water vapor) বিদ্যমান থাকে। শীতকালের রাতে দীর্ঘ সময় ধরে ভূপৃষ্ঠ নিজের তাপ বিকিরণ করে অত্যন্ত ঠান্ডা হয়ে পড়ে।
- শিশিরাঙ্কে পৌঁছানো: ভূপৃষ্ঠ ঠান্ডা হওয়ার প্রভাবে তার সংলগ্ন বাতাসের তাপমাত্রাও হু হু করে কমতে থাকে। কমতে কমতে যখন বাতাসের তাপমাত্রা ‘শিশিরাঙ্ক’ বা ডিউ পয়েন্টে (Dew point temperature) পৌঁছায়, তখন বাতাসে থাকা জলীয় বাষ্প আর বাষ্পীয় অবস্থায় থাকতে পারে না।
- জলীয় বাষ্পের ঘনীভবন: এ সময় জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পানির কণায় পরিণত হয়। এই ক্ষুদ্র জলকণাগুলো যখন ধূলিকণা বা বাতাসে ভেসে বেড়ায়, তখনই সৃষ্টি হয় ঘন কুয়াশা (Thick fog formation)।
- পরিষ্কার আকাশের প্রভাব: শীতকালে আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে ভূপৃষ্ঠ থেকে তাপ খুব দ্রুত মহাশূন্যে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বাতাস দ্রুত ঠান্ডা হয়ে কুয়াশা তৈরির অনুকূল আবহাওয়া তৈরি করে।
আরও পড়ুন:
ভোরের দিকেই কেন কুয়াশার তীব্রতা বেশি থাকে? (Why Fog Peak in Early Morning)
সূর্যাস্তের পর থেকেই পরিবেশ ধীরে ধীরে তাপ হারাতে শুরু করে। রাত যত গভীর হতে থাকে, বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা (Atmospheric temperature) ততই নিম্নমুখী হয়।
সাধারণত ভোরের দিকে দিনের তাপমাত্রা সবচেয়ে নিচে নেমে আসে। ফলে ভোরের দিকে বাতাসের সম্পৃক্ততা সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়। এছাড়া ভোরের দিকে বাতাসের গতিবেগ কম থাকলে (Low wind speed) ঠান্ডা ও আর্দ্র বাতাস ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি জমে থাকে, যা কুয়াশাকে আরও ঘন হতে সাহায্য করে। বাতাস বেশি জোরে প্রবাহিত হলে কুয়াশা হালকা হয়ে ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন:
সব শীতের সকালে কি সমপরিমাণ কুয়াশা পড়ে? (Variations in Winter Fog Frequency)
সব শীতের সকালে সমান কুয়াশা দেখা যায় না। কুয়াশা সৃষ্টির মূল শর্ত হলো বাতাসে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা (Humidity level in air) এবং দ্রুত তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়া।
বাতাস অতিরিক্ত শুষ্ক থাকলে কিংবা আবহাওয়া মেঘলা থাকলে কুয়াশার দেখা মেলে না। তবে নদী, বিল, জলাশয়, ধানক্ষেত কিংবা নিচু অঞ্চলে বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় এসব জায়গায় তুলনামূলক বেশি ঘন কুয়াশা তৈরি হয়।
সূর্য উঠলেই কুয়াশা গলে বা কেটে যায় কেন? (Why Fog Disappears After Sunrise)
সকালে সূর্য ওঠার পর রোদ যখন ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করতে শুরু করে, তখন সংলগ্ন বাতাসের তাপমাত্রাও দ্রুত বাড়তে থাকে। তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে কুয়াশায় ভেসে থাকা অতি ক্ষুদ্র জলকণাগুলো পুনরায় বাষ্পীভূত (Evaporation process) হয়ে বাতাসে মিশে যায়। ফলে ধীরে ধীরে কুয়াশার চাদর সরে গিয়ে চারপাশ পরিষ্কার হয়ে ওঠে। তবে রোদের তীব্রতা কম থাকলে বা কুয়াশার স্তর অতি ঘন হলে তা অনেক বেলা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
আরও পড়ুন:
কুয়াশার সৌন্দর্য ও সতর্কতামূলক নির্দেশনা (Winter Fog Safety Tips)
শীতের সকালের স্নিগ্ধ প্রকৃতির রূপ সৃষ্টিতে কুয়াশার অবদান অতুলনীয়। তবে কুয়াশার কারণে রাস্তায় দৃশ্যমানতা বা ভিজিবিলিটি (Road visibility) আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়, যা সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম বড় কারণ।
তাই শীতকালে যানবাহন চালকদের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, ফগ লাইট (Fog lights) ব্যবহার করা এবং সামনের গাড়ির থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:





