নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে সহিংসতা; কতটুকু প্রস্তুত পুলিশ প্রশাসন?

সাম্প্রতি সময়ে ঘটা কিছু অপরাধমূলক কর্মকান্ড
অপরাধ
0

নির্বাচন সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়ছে উত্তেজনা। বিভিন্ন এলাকায় টার্গেট কিলিং, প্রার্থীদের হুমকি, এমনকি প্রার্থী ও সমর্থকদের গুলি করে হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কতটা প্রস্তুত পুলিশ প্রশাসন?

নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে সহিংসতার আশঙ্কা। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রার্থীদের ওপর হুমকি, হামলা এবং প্রাণহানির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাতে চলাচলে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে চরম নিরাপত্তাহীনতা।

নির্বাচনের প্রার্থী, তাদের সমর্থক ও জুলাইযোদ্ধাদের ওপর একের পর এক হুমকি কাঁপন ধরাচ্ছে মানুষের বুকে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত টার্গেট কিলিংয়ের শঙ্কা নিয়েও কথা বলছেন বিভিন্ন মহল। যদিও এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তৎপর থাকার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

এমন পরিস্থিতিতে কতটুকু প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী? তা দেখতে এখন টিভির প্রতিনিধি দল আদাবর থানা এলাকায় যায়।

মাত্র চারটি টহল টিম ও প্রায় একশোজন সদস্য দিয়ে চলছে এ থানা। ৪৩টি টহল টিম দিয়ে চলবে এ এলাকার ৪৩টি ভোট অথচ ঢাকা শহরে এ এলাকার অপরাধের চিত্র অন্য এলাকার থেকে বেশি।

ডিউটি অফিসার বলেন, ‘বাংলাদেশের ভেতরে, ঢাকা শহরের ভেতরে ৫০টি থানার মধ্যে আদাবর এবং মোহাম্মদপুর থানা ব্রিটিশ আমল থেকে ক্রিটিক্যাল। এখনো ক্রিটিক্যাল।’

আরও পড়ুন:

মোহাম্মদপুর থানায় খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, এ থানায় মোট নয়টি টহল টিম থাকলেও অধিকাংশ পুলিশ এসেছে ঢাকার বাইরে থেকে। লেগুনা ও হাতে গোনা কয়েকটি গাড়ি দিয়েই নিতে হচ্ছে এ এলাকার নির্বাচনের প্রস্তুতি।

একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, তার এর পূর্বে পোস্টিং ছিলো খুলনায়। এখন ঢাকায় তার পোস্টিং। চ্যালেঞ্জের কথায় তিনি জানান, দুই জায়গাতেই রয়েছে সমান চ্যালেঞ্জ।

এমন অবস্থা রাজধানীর অধিকাংশ থানার। ঢাল নেই, তলোয়ার নেই, যেন নিধিরাম সর্দার। কাগজে কলমে এক হাজার ৪৪৩টি গাড়ি থাকার কথা থাকলেও অধিকাংশ নষ্ট ও সিনিয়র অফিসারদের ব্যবহারের জন্য। দ্রুত রেসপন্স টিম কীভাবে কাজ করবে?

ডিএমপি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন বিভাগ) উপ- কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ‘পুলিশ কত দ্রুত কেন্দ্রগুলোতে যেতে পারে সবগুলো জিনিস মাথায় রেখে আমরা কেন্দ্রগুলোকে ভাগ করেছি। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আমাদের যথেষ্ট সতর্কতা থাকবে। সেই অনুযায়ী আমরা কেন্দ্রগুলোকে ভাগ করছি।’

শুধু ঢাকা নয় প্রকাশ্যে গুলির ঘটনা ঘটেছে দেশের বিভিন্নস্থানে। পুলিশের প্রস্তুতি কী?

পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া অ্যান্ড পিআর এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, ‘যারা টার্গেট কিলিং এ জড়িত এরইমধ্যে আমরা তাদের তালিকা করেছি। আমাদের গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে অনেকে। আবার কিছু মানুষকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এ বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি দিচ্ছি।’

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, পুলিশের একার পক্ষে এতো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এজন্য সমন্বিত উদ্যোগ ।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) ড. মনিরুল ইসলাম আখন্দ বলেন, ‘আমি খুবই হতাশ রিসেন্ট কিছু ঘটনা দেখে। ওসমান হাদির মৃত্যু ছাড়াও আরও দুই-একটি টার্গেট কিলিং হয়েছে। এটি কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত নয়। ভোটারদের মনে ভীতি সৃষ্টি করবে। আমি মনে করি একটি গোষ্ঠী অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন চায় না।’

সহিংসতার আশঙ্কার মাঝেই নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশের প্রস্তুতির ওপর তাকিয়ে দেশবাসী। শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, সেটাই নির্ধারণ করবে নির্বাচনের পরিবেশ।

এফএস