শোলাকিয়া-বড় ময়দানে ঈদের জামাত; চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

শাহনুর শাকিব
কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ও  দিনাজপুরের বড় ময়দান
এখন জনপদে
দেশে এখন
0

দেশজুড়ে চলছে ঈদের জামাত আয়োজনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। দুই শতকের ঐতিহ্যবাহী কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ এবং দিনাজপুরের শহিদ বড় ময়দান—দুই স্থানেই ব্যস্ততা তুঙ্গে। লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চলছে সমন্বিত প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

ঐতিহ্য আর ইতিহাসের এক অনন্য নিদর্শন—কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ। ১৮২৮ সালে যাত্রা শুরু হওয়া এই জামাত এবার পৌঁছাতে যাচ্ছে ১৯৯তম আয়োজনে। ঈদের দিন সকাল ১০টায় লাখো মুসল্লির পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে এই বিশাল প্রান্তর।

এরইমধ্যে মাঠজুড়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে। কাতার বিন্যাস, মাঠ সমতল করতে বালু ফেলা, তোরণ নির্মাণ এবং মাইকিং—সবকিছুতেই ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রশাসন, পৌরসভা ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এগোচ্ছে কাজ।

স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমি আমার নাতিকে নিয়ে এ মাঠ দেখতে আসছি। রঙের কাজ চলছে, খুবই ভালো লাগছে।’

মুসল্লিদের মধ্যে একজন বলেন, ‘সময়ের তুলনায় এখানে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। এ মাঠের সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।’

আরও পড়ুন:

তবে প্রতি বছরই একটি প্রশ্ন সামনে আসে—দুই শতকের এই ঐতিহ্য কি শুধুই এক দিনের জন্য? ঈদের পর বছরের বাকি সময়জুড়ে অবহেলা আর অযত্নেই পড়ে থাকে শোলাকিয়ার এই ঐতিহাসিক মাঠ। দেশ-বিদেশ থেকে দর্শনার্থীরা এলেও নেই পর্যটন সুবিধা বা স্থায়ী উন্নয়নের ছাপ। বিশেষজ্ঞদের মতে, যথাযথ পরিকল্পনা নিলে এটি হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র।

কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘যেহেতু এটা ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ মাঠ, এর উন্নয়নের জন্য এরইমধ্যে আমরা কথা বলেছি, আশা করি, আগামী ঈদুল ফিতরের আগেই এ মাঠের উন্নয়ন কাজ হবে।’

ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিজিবি, র‍্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি থাকবে সিসি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ার এবং ড্রোন নজরদারি।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে চার স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। সেভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পোশাকে পুলিশের পাশাপাশি এখানে সাদা পোশাকের পুলিশ থাকবে। পাশাপাশি র‌্যাব এবং টেরোরিজম ইউনিটের বোম্ব ডেজপোজাল ইউনিট কাজ করবে।’

আরও পড়ুন:

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, ‘বরাবরের মতো সকাল ১০টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।’

অন্যদিকে দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী শহিদ বড় ময়দানেও চলছে একই চিত্র। জেলার সবচেয়ে বড় ঈদের জামাতকে ঘিরে এখন প্রস্তুতির শেষ সময়। মাঠ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, কাতার নির্ধারণ, বাঁশের কাঠামো নির্মাণ—সবকিছু চলছে সমানতালে। লক্ষাধিক মুসল্লির কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে ২০টি প্রবেশ পথ এবং তিনটি ওয়াচ টাওয়ার।

দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা বলেন, ‘তিনস্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা আমরা রেখেছি। পোশাকি পুলি,এর বাইরে টহল পুলিশ এবং সাদা পোশাকের পুলিশ থাকবে।’

দিনাজপুর পৌরসভার প্রশাসক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘প্রতিবারের মতো মাঠকে প্রস্তুত করার দায়িত্ব বহন করেছি, জেলা প্রশাসন, দিনাজপুর পৌরসভা এবং জেলা পরিষদের যৌথ উদ্যোগে আমরা এ মাঠের প্রস্তুতির কার্যক্রম হাতে নিয়েছি।’

মুসল্লিদের জন্য রাখা হয়েছে আধুনিক ওজুখানা, যেখানে একসঙ্গে ২০০ জন ওজু করতে পারবেন। আয়োজকরা আশা করছেন, এবারও এক লাখের বেশি মুসল্লির সমাগম হবে এই মাঠে।

এসএস