রুটিন টিকায় অবহেলায় বাড়ছে শিশুদের হামের ঝুঁকি— মতামত বিশেষজ্ঞদের

হাসপাতালে শিশুরা
স্বাস্থ্য
দেশে এখন
0

২০২০ সালের পর থেকেই ক্যাম্পেইন বন্ধ ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকার ফাইন্যান্স চেইন ও অপারেশন প্ল্যান বন্ধ হওয়ায় হামের ঝুঁকি বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, বিকল্প উপায় না রেখে অপারেশন প্ল্যান বন্ধ করা ভুল সিদ্ধান্ত ছিলো। আর জনস্বাস্থ্য ও টিকা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রুটিন টিকায় অবহেলা করায় শিশুরা হামের ঝুঁকিতে পড়েছে।

দেশে হঠাৎ হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় মার্চে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তবে আট বছর আগে হামের টিকা দেয়া হয়েছিলো স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এমন দাবি করলেও ইপিআই বলছে টিকা দেয়া বন্ধ নয়, ২০২০ সালের পর টিকার ক্যাম্পেইন বন্ধ হয়ে যায়।

ইপিআই’র ডেপুটি ডিরেক্টর ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, ‘২০২০ সালের এ ক্যাম্পেইনটা হয়েছিল। এটা রুটিন ওয়েতেই এই ভ্যাকসিনটা দেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন কারণে এটা গতবছর করা সম্ভব হয়নি।’

গত ৬ বছরে ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকায় হামের দ্বিতীয় ডোজ থেকে প্রায় ৩৩ শতাংশ শিশু বাদ পড়ে যায়। কিন্তু নিয়মিত ক্যাম্পেইন হলে প্রতিবছর বাদ পড়া ৮-১২ শতাংশ শিশু টিকার আওতায় চলে আসে। এই ক্যাম্পেইন না হওয়াতেই মূলত হামের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে ক্যাম্পেইন বন্ধ হওয়া, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ফাইন্যান্স চেইন ও অপারেশন প্ল্যান বন্ধ হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে। বিকল্প পন্থা না রেখে অপারেশন প্ল্যান বন্ধ করা অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত ছিলো বলেও জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান।

আরও পড়ুন:

তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ই তো ওপি বন্ধ করা হয়েছে। তাও কোনো বিকল্প ব্যবস্থাকে ফাংশনিং না করে। এটা চরম ভুল একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে। মানে এটা এত বড় একটা ভুল তারা করেছে, যার কোনো ব্যাখ্যা নেই। স্টাবলিশড এই প্রসিডিউরগুলোতে তারা হাত দিয়েছে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করে। এটা যদি চলতে থাকে, তাহলে আগামী কয়েকমাস পরে অর্থনীতির জন্য যতগুলো প্রভাব পড়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপরে সেগুলো আরও এভিডেন্ট হবে।’

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির ইপিআইয়ের সাবেক প্রোগ্রাম ম্যানেজার ও টিকা বিশেষজ্ঞ ডা. তাজুল ইসলাম এ বারী বলছেন, রুটিন টিকায় অবহেলা করায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ডা. তাজুল ইসলাম এ বারী বলেন, ‘রুটিন ভ্যাকসিনটা যদি ঠিকমতো দেয়া হতো, তাহলে এ সমস্যাটা হতো না। প্রায় ৩০ শতাংশ বাচ্চা ঝুঁকির মদ্যে পড়ছে, ৩০ শতাংশ মানে প্রতিবছর ১০ লাখ ৩৬ হাজার বাচ্চা ঝুঁকিতে পড়ছে। জনস্বাস্থ্যের নিয়ম অনুযায়ী, এই বাচ্চাটা যখন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে, তখনই আউটব্রেক হয়, যেটা বাংলাদেশে হয়েছে।’

বর্তমানে যে দুই কোটি ১৯ লাখ টিকা আছে সেগুলোও পুরোপুরি ব্যবহার করতেও প্রায় দেড়-দুই মাস সময় লেগে যাবে। মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সরঞ্জামের ওপর নির্ভর করছে দ্রুত হামের টিকা প্রয়োগের ভাগ্য।

এসএস