বৈঠকে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শ্রমিক নিয়োগে প্রযুক্তিনির্ভর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) একটি নতুন ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে দেশটি। এটি সব শ্রমিক-প্রেরণকারী দেশের জন্য প্রযোজ্য হবে। এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য— দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো, অভিবাসন খরচ কমিয়ে আনা এবং নিয়োগের পুরো ব্যয় নিয়োগকর্তার কাঁধে দেয়া।
অর্থাৎ শ্রমিকের পকেট থেকে একটি টাকাও যাবে না। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ‘নিয়োগকর্তা ব্যয়বহন নীতি’র আলোকেই এই ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এতে পূর্ণ সমর্থন দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অন্যান্য শ্রমিক-প্রেরণকারী সব দেশকে সঙ্গে নিয়ে বৈশ্বিক উদ্যোগ হিসেবে এই ডিজিটাল প্লাটফর্ম বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহও জানিয়েছে ঢাকা।
আরও পড়ুন:
এছাড়া বৈঠকে আটকে পড়া শ্রমিকদের দ্রুত নিয়োগ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়েও দু’পক্ষ একমত হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিক নিয়োগকে ঘিরে মানবপাচারের চলমান মামলাগুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে বৈঠকে।
মালয়েশিয়া বলেছে, কারো ভিত্তিহীন বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ যেন দেশটির আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ না করে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ আইনের শাসনের প্রতি তার প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনে জবাবদিহিতা ও সময়মতো বিচার নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে অবৈধ বা অনিয়মিত শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানের উপায় নিয়েও কথা হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ, সনদায়ন ও তথ্য বিনিময়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে।
আরও পড়ুন:
বৈঠকের মূল লক্ষ্য বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনবল পাঠানো এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানো। বৈঠক শেষে উভয়পক্ষই আলোচনার ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। নিয়মিত পরামর্শ বৈঠকের মাধ্যমে যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও একমত হয়েছে তারা।
শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা করতে গতকাল (বুধবার, ৯ এপ্রিল) মালয়েশিয়ায় যান শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা করতে এটি প্রথম সফর।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কার্যালয়ে তার সঙ্গে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সাক্ষাৎ করেন। এসময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাই কমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী।
সভার শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তার সুবিধাজনক সময়ে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান।





