ধাপে ধাপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে শক্তিশালী করা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
দেশে এখন
0

ধাপে ধাপে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে শক্তিশালী করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ (বুধবার, ২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় (বিধি-৬৮) অংশ নিয়ে তিনি এ কথা জানান। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান সংসদে এ বিষয়ে নোটিশ উত্থাপন করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে এবং সরকার গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সংসদকেই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর কেন্দ্র হিসেবে দেখতে চায়। এটি সংকট বলা না হলেও প্রস্তাবের কারণে আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। তবে বাস্তব চিত্র হলো—দেশের কৃষি, শিল্প, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্য কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।’

দেশে জ্বালানি পরিস্থিতিকে সরাসরি ‘সংকট’ বলা ঠিক নয়; বরং সরকার নিয়ন্ত্রিত ও ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘অবৈধ মজুদ, কালোবাজারি ও পাচারের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে।’

তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সীমিত পরিসরে জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যাতে অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে এবং জনগণের দুর্ভোগ কম থাকে। কোথাও ১৫, কোথাও ২০ বা ২৫ টাকা পর্যন্ত মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বে অনেক দেশে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে সহনীয় পর্যায়ে মূল্য সমন্বয় করেছে।’

আরও পড়ুন:

জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোথাও কোথাও কালোবাজারি, অবৈধ মজুদ ও পাচারের ঘটনা ঘটেছে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় চিহ্নিত ও দমন করা হচ্ছে। র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবিসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে এসব অনিয়ম উদঘাটন করছে।’

তিনি বলেন, ‘এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে কঠোরভাবে দমন করা হবে। কালোবাজারির পরিচয়ই কালোবাজারি—এখানে দোষারোপের রাজনীতি নয়, আইনের প্রয়োগই প্রধান।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সারা দেশে পেট্রোল পাম্প ও ডিপোতে নিয়মিত তদারকি ও মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, ‘সীমান্তবর্তী এলাকায় কম দামের পণ্যের পাচারের প্রবণতা একটি বাস্তবতা হলেও সরকার তা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে এবং জ্বালানি তেলের বড় ধরনের পাচার প্রতিরোধ করা গেছে।’

আরও পড়ুন:

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যমান অবকাঠামো ও জনবল সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও আধুনিক, জনবান্ধব ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে কাজ চলছে।’

তিনি বলেন, ‘ওভারনাইট সবকিছু পরিবর্তন সম্ভব নয়, তবে ধাপে ধাপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে শক্তিশালী করা হচ্ছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া কিছু এলাকাও এখন পুনরায় রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং অপরাধ দমনে কার্যকর অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে।’

আরও পড়ুন:

তিনি বলেন, ‘সরকার “মব কালচার” বন্ধ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশকে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।’

আলোচনায় সরকার ও বিরোধীদলের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জাতীয় ইস্যুতে আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করতে চাই। সংসদ থেকেই সমাধান বেরিয়ে এলে তা বাস্তবায়নে সরকার প্রস্তুত।’

তিনি সংসদে গঠনমূলক আলোচনা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং বিরোধীদলসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

এসএস