কোস্টগার্ডের জনবল বেড়ে ১০ হাজার হচ্ছে, কেনা হবে ড্রোন ও হেলিকপ্টার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
দেশে এখন
0

বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সক্ষমতা ও পরিধি বাড়াতে বাহিনীটির জনবল বাড়িয়ে ১০ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। পাশাপাশি আগামীতে এই বাহিনীর জন্য আধুনিক হেলিকপ্টার, রেসকিউ ড্রোন এবং মেরিটাইম সার্ভিল্যান্স সিস্টেম কেনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ (মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সদর দপ্তরে বাহিনীটির ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা জানান।

অনুষ্ঠান শেষে তিনি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে কোস্টগার্ডের সালাম গ্রহণ করেন এবং বীরত্বপূর্ণ ও সেবামূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ চার ক্যাটাগরিতে ১৪ জন সদস্যের হাতে পদক তুলে দেন।

আধুনিক হচ্ছে কোস্টগার্ড:

বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার সরকারি উদ্যোগের কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কোস্টগার্ডের বহরে এরই মধ্যে তিনটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনসহ তিনটি সার্ভিল্যান্স ড্রোন যুক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা জাইকার অর্থায়নে একটি মাল্টিরোল রেসপন্স ভেসেল এবং দুটি অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল নির্মাণের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।’

তিনি জানান, অতি সম্প্রতি খুলনা শিপইয়ার্ডের মাধ্যমে বুলেটপ্রুফ সুবিধাসম্পন্ন হাইস্পিড বোট কেনার চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া কোস্টগার্ডের পুরোনো ৯টি জাহাজের বদলে দেশিয় শিপইয়ার্ডে নতুন ৯টি প্যাট্রোল ভেসেল নির্মাণের প্রকল্প এবং মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় একটি আধুনিক ডকইয়ার্ড নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আধুনিক জাহাজ ও অত্যাধুনিক সিস্টেম যুক্ত হলে বাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন:

সুন্দরবনে দস্যু দমনে সাফল্য:

উপকূলীয় এলাকা এবং বিশেষ করে সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের ভূমিকার প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘গত এক বছরের কিছু বেশি সময়ে সুন্দরবন এলাকায় মোট ২৯টি অভিযান পরিচালনা করে কোস্টগার্ড ৩৫ জন কুখ্যাত ডাকাতকে আটক করেছে। এসব অভিযানে ৪৭টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধারের পাশাপাশি ৩০ জন জিম্মিকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে অবৈধ পাচারকারীদের হাত থেকে প্রায় ১৪৬ কোটি টাকা মূল্যের কাঠ উদ্ধার করেছে এ বাহিনী।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ১৯৯৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই মূলত কোস্টগার্ড গঠনের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী চিন্তা এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে কোস্টগার্ডকে একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বদ্ধপরিকর।’

দেশের সামুদ্রিক সম্পদ ও উপকূলীয় জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কোস্টগার্ড সততা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাবে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বাহিনীর সদস্যদের আবাসন সংকট নিরসনে মিরপুর, জোয়ার সাহারা, বাউনিয়া এবং পূর্বাচলে জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এসএইচ