দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যমুনা সেতুতে স্বাভাবিক সময়ে ২০ থেকে ২২ হাজার যানবাহন পারাপার হলেও ঈদে চাপ বেড়ে যায় কয়েক গুণ।
এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতুর পূর্ব পাড় পর্যন্ত চারলেনের কাজ কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়েও শেষ হয়নি। এলেঙ্গায় ফ্লাইওভারের কাজ চলমান থাকায় স্বাভাবিক সময়েও যানজটে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
প্রকল্পের টাঙ্গাইল অংশের কাজ শেষ না হওয়া, মহাসড়কে চাঁজাবাজি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল এবং এলোমেলো গাড়ি চালানোর কারণে যানজটে চরম ভোগান্তি হতে পারে।
চালকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘ঈদে ঢাকা-টাঙ্গাইলে অনেক সময় তো ৬ ঘণ্টা ৭ ঘণ্টা জ্যামে থাকতে হয়। অনেক সময় সকালে গাড়ি টান দিলে রাত হয়ে যায়।’
আরও পড়ুন:
যাত্রীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘মেইনলি এই এলেঙ্গা জায়গাটায় সমস্যা হয় বেশি। ক্রসিং করার জায়গা পায় না, মাঝখানে অনেকটুক জায়গাজুড়ে কাজ করতেছে রাস্তার। খনন কাজ চলতেছে, পাইলিং এর কাজ চলতেছে, যে কারণে ওই পাশ থেকে এই পাশ থেকে গাড়িগুলো যে চলাফেরা করে জায়গাটা রাস্তাটা সরু হয়ে গেছে, যে কারণে যানজটের সমস্যা।’
মহাসড়কে চলমান প্রকল্পের অগ্রগতির বিষয়ে ঠিকাদার কর্তৃপক্ষ বলছে, যমুনা সেতুর প্রস্থতা কম হওয়ায় অতিরিক্ত গাড়ির চাপে সেতুতে ধীর গতি হতে পারে। তবে তাদের কাজের কারণে কোনো যানজট হবে না বলে জানান এই কর্মকর্তা।
আব্দুল মোনায়েম লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার রবিউল আওয়াল বলেন, ‘উত্তরবঙ্গগামী উভয় লেনেই যেন ফোর লেন ফ্যাসিলিটিজ পাই। এছাড়াও এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের পাশে আমরা উভয়পাশেই দুইটা বাস বে তৈরি করেছি যাতে ঢাকা থেকে আগত গাড়িগুলো কিংবা উত্তরবঙ্গ থেকে আগত গাড়িগুলো ওই বাসস্ট্যান্ড হিসেবে ওই জায়গাটাকে ইউজ করতে পারে এবং ওখানে প্রায় আমরা ১৫-২০টা গাড়ি আলাদাভাবে দাঁড়ানোর সক্ষমতা ওখানে আছে রাস্তাটা ক্লিয়ার রাখার পরেও।’
গেল ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন বিকলসহ নানাবিধ কারণে বেগ পোহাতে হয়েছে। আসন্ন ঈদে গরুবাহী যানবাহনের চাপ সামাল দেয়াসহ নানা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের যমুনা সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘তিনটি রেকারই আমাদের ঈদের সময় নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকবে এবং এছাড়া আমরা উদ্ধার কাজের ক্ষেত্রে, যাতে দ্রুত সেতুর ওপরে উদ্ধার কাজ এবং যানজট নিয়ন্ত্রণ করা যায় এক্ষেত্রে গত ঈদে আমরা আপনার সেতুর ওপরে ৫০০ মিটার পর পর আমরা জনবল নিয়োগ করেছিলাম। এবার আমাদের পরিকল্পনা আছে যে ৩০০ মিটার পর পর আমরা জনবল নিয়োগ রাখবো এবং যাতে দ্রুত কোনো যানবাহনের কোনো সমস্যা হলে আমরা অবগত হইতে পারি এবং দ্রুত সেটা উদ্ধার করা যায়।’
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ফিটনেসবিহীন যান চলাচলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ সদস্যদের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, ‘৬৫ কিলোমিটার হাইওয়ে রয়েছে। এর মধ্যে আমাদের প্রায় ৬০টা পয়েন্টে আমরা পিকেট ডিউটিতে রয়েছি, হোন্ডা মোবাইল থাকবে ৩০টা। এই ৬৫ কিলোমিটারকে আমরা পাঁচটা সেক্টরে ভাগ করেছি এবং প্রত্যেকটা সেক্টরের ইনচার্জ থাকবে একজন এএসপি অথবা এডিশনাল এএসপি। এটা আমরা তিনটা পালাক্রমে ২৪ ঘণ্টায় তারা ডিউটি করবে।’
অন্তত ২৩ জেলার মানুষের ভরসা ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক। গেল কোরবানির ঈদে ২৪ ঘণ্টায় ৬৪ হাজারের অধিক যানবাহন সেতু পারাপার হয়েছে।





