প্রতিমন্ত্রী জানান, পুরো বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযুক্ত যুগ্মসচিব আনিসুর রহমান বর্তমানে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) হিসেবে প্রাক্কলিত দায়িত্বে রয়েছেন।
যুগ্মসচিবের মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তাকে (আনিসুর রহমান) গতকাল রাতে ফোনে পাওয়া যায়নি। এখন তার সঙ্গে কথা বলে আগে নিশ্চিত হতে হবে যে বিষয়টি তার মাকে কেন্দ্র করেই কি না। আমরা সেটি দেখছি।’
পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘একটা আইন আছে, যেখানে বাবা-মায়ের ভরণ-পোষণ সংক্রান্ত বিধান রয়েছে। সেটি কার্যকর থাকলে আইন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব।’
এছাড়া, একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখে তা অ্যাড্রেস করা হবে বলে তিনি জানান। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার পর থেকে যুগ্মসচিব আনিসুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এর আগে, গত রোববার (৩১ মে) রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের পচা-গলা ও পোকা ধরা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ প্রতিবেশীদের ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
তদন্তে জানা যায়, মায়ের সঙ্গে একই বাসায় পাশাপাশি রুমে বসবাস করলেও তার মৃত্যুর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাননি তার স্কুলশিক্ষিকা মেয়ে। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, ওই বৃদ্ধা দীর্ঘদিন ধরে কার্যত একা ও অবহেলার মধ্যে বসবাস করছিলেন।
নুরজাহান বেগমের দুই ছেলে আলাদা থাকতেন এবং মায়ের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ ছিল না। আনিসুর রহমান ছাড়াও তার অপর ছেলে এ কে এম আশিকুর রহমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের একজন অধ্যাপক। উচ্চশিক্ষিত ও পদস্থ সন্তানদের এমন চরম অবহেলায় মায়ের মৃত্যুর ঘটনাটি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।



-320x167.webp)

