দেশে ফিরলো লেবাননে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ

লেবাননে ইসরাইলের হামলায় নিহত
দেশে এখন
2

দেশে ফিরলো লেবাননে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ। গতকাল ( শনিবার, ৬ জুন ) রাত আড়াইটায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ নিতে আসেন নিহতদের স্বজনরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। নিহত শফিকুল ইসলাম ও নাহিদুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরায়। পরিবার দুটির পাশে সহযোগিতার ঘোষণা দেয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে।

নিহত শফিকুল ইসলামের স্ত্রী বলেন, ‘বেশিদিন তো হয়নি যাওয়ার, বিদায় করে গেছে, কিচ্ছু শোধ করতে পারিনি।’

স্বামীর মৃত্যুর পর বাঁধভাঙা কান্নায় ভেঙে পড়েন লেবাননে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় নিহত শফিকুল ইসলামের স্ত্রী। নিহতের স্ত্রী বলেন, ‘ছোট ছেলেটারে আমি কীভাবে মানুষ করবো, আমি কাজ কামও করতে পারিনি ভালো করে।’

দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ অঞ্চলের জিবদিন এলাকায় ইসরাইলের ড্রোন হামলায় নিহত হন লেবানন প্রবাসী শফিকুল ইসলাম ও নাহিদুল ইসলাম। দু’জনের গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরাতে। গতকাল (শনিবার, ৬ জুন) রাত আড়াইটার সময় এয়ারপোর্টে মরদেহ গ্রহণ করেন স্বজনরা।

আরও পড়ুন

নিহত দুই প্রবাসীর মরদেহ হস্তান্তরের সময় ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি জানান, লেবাননে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ১০ প্রবাসী নাগরিককে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সেখান থেকে ফিরে এসেছে সাতজনের মরদেহ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকে বলে এসেছি যখন থেকে যুদ্ধ শুরু হয়েছে যে, আমাদের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে যে আমাদের নাগরিকদের পাশে থাকা। যে যেখানে আছে, যে দেশে যে অবস্থায় আছে। আমাদের নাগরিকরা যেন নিরাপদে থাকে এবং কোনো বিপদে যদি তারা পড়ে যায়, তাদেরকে যেন আমরা ফিরিয়ে আনতে পারি, তাদের সব সহযোগিতা আমরা করতে পারি, সেটাই আমাদের এক নম্বর প্রায়োরিটি।’

আরেক প্রবাসী নাহিদুল ইসলামের স্বজনরা জানান, লেবাননে তাদের পরিবারের আরো দু’জন আছেন। যারা ভিসা ও পাসপোর্ট জটিলতায় দেশে ফিরতে পারছেন না। তাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

নিহত নাহিদুল ইসলামের চাচা বলেন, ‘এ ছেলে পাঠাতে গিয়ে অনেক ঋণ করা হয়েছে। এখন সরকার যদি ফ্যামিলিকে সাহায্য করে, তাহলে সংসারটা টিকে থাকবে। না হলে সংসার একবারেই ধ্বংস হয়ে যাবে এরকম একটা অবস্থা। ওনারা আসবে, ওনাদের পাসপোর্ট, ভিসা সব আটকে রাখছে ওই মালিক। এখন তারা ওদের আসতে দিচ্ছে না। এ নিয়ে বড় একটা আতঙ্কের ভিতর আছে।’

মরদেহের সমাহিত করতে নিহতদের পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সরকারের পক্ষ থেকে পরিবার দুটির পাশে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

জেআর