সবার জন্য সুন্দরভাবে ব্যবসা করার সুবিধা তৈরি করা হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

সংসদে তারেক রহমান
দেশে এখন
0

দেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে অর্থনৈতিক সুশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি সবার জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রত্যেকের জন্য এমন সুবিধা তৈরি করা হবে, যেখানে তারা সুন্দরভাবে ব্যবসা করতে পারেন এবং নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেন। সেইভাবেই আমরা চেষ্টা করছি এবারকার বাজেটটি তৈরি করতে।

আজ (বুধবার, ১০ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন। বিকেল ৩টা থেকে শুরু হওয়া এই সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।

কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলমের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশকে গড়ে তুলতে হলে অর্থনৈতিক ডিসিপ্লিন ফিরিয়ে আনার কোনো বিকল্প নেই। এরই অংশ হিসেবে সরকার দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজীকরণের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মাধ্যমে বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী সংসদে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নেয়া সংস্কারমূলক কার্যক্রমের বিবরণ তুলে ধরে জানান:-

অনলাইন নিবন্ধন: আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দফতর হতে এখন সম্পূর্ণ অনলাইনের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে আমদানি ও রপ্তানি নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

নীতিমালা হালনাগাদকরণ: বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ‘রপ্তানি নীতি’ হালনাগাদ করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যাতে সহজে বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করতে পারেন, সেজন্য ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯’ হালনাগাদকরণের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অশুল্ক বাধা দূরীকরণ: রপ্তানির উদ্দেশে আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সব ধরনের অশুল্ক বাধা দূর করার কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বন্ডেড এবং নন-বন্ডেড সকল প্রতিষ্ঠানকে এফওসি ভিত্তিতে আমদানির সুযোগের আওতা আরও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে।

এলসি ছাড়া আমদানির সুযোগ: আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করার লক্ষ্যে মূল্য পরিশোধ পদ্ধতি শিথিল করা হচ্ছে। এখন থেকে সকল আমদানিকারকের জন্য মূল্যসীমা নির্বিশেষে এলসি ব্যতীত সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ রাখা হচ্ছে।

বিনিয়োগকারীদের প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা দূর করতে সরকার এক বিশাল কাঠামোগত পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, সেবা প্রদানের দক্ষতা বৃদ্ধি ও আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা কমাতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপিএ) এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষকে একীভূত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

অনেক সময় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ব্যবসা স্থানান্তর, শেয়ার বিক্রয় কিংবা ব্যবসা বন্ধ করার পর মূলধন ও অর্জিত লভ্যাংশ নিজ দেশে ফেরত নেয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার মুখোমুখি হন। এই সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য পরিবেশ আরও আকর্ষণীয় করতে মূলধন ও বিনিয়োগ প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া সহজীকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত ‘‘মূলধন প্রত্যাবর্তন-সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি’’ বিদ্যমান প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে একগুচ্ছ সংস্কার প্রস্তাব প্রণয়ন করেছে, যা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।’

একই সঙ্গে বিনিয়োগ কার্যক্রমের সূচনা আরও দ্রুত, সহজ ও পূর্বানুমানযোগ্য করতে সরকার লাইসেন্সিং ও যাবতীয় অনুমোদন প্রক্রিয়ারও ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে বলে সংসদকে আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

এনএইচ