স্থানীয় নির্বাচনে আ.লীগ সমর্থকদের সক্রিয় হওয়ার গুঞ্জন, আইনি প্রক্রিয়া ও বিচারের দাবি

নির্বাচন কমিশন ভবন
বিশেষ প্রতিবেদন
দেশে এখন
0

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ দলটির সমর্থকদের। তবে আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিবাদ এবং গণহত্যায় সম্পৃক্ত উল্লেখ করে বিরোধীদল বলছে, স্থানীয় নির্বাচনের আগে আওয়ামী সংশ্লিষ্টদের বিচারিক প্রক্রিয়ায় আনা জরুরি। আর বিএনপি বলছে, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় কেউ স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি খতিয়ে দেখছে সরকার।

ফ্যাসিবাদের তকমা মাথায় নিয়ে ২০২৪ এর ৫ আগস্ট পতন ঘটে তৎকালীন আওয়ামী সরকারের। এরইমধ্যে কেটেছে প্রায় ২ বছর। মাঝে ২০২৫ এর ১২ মে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্তে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ হয়নি। দলীয় প্রধানসহ বেশিরভাগ নেতাকর্মী এখনো দেশের বাইরে। গুটিকয়েক দেশে থাকলেও তাদের একটা বড় অংশ কারাগারে, কেউ কেউ আবার এখনও পলাতক.

দল হিসেবে আওয়ামীলীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় গত ২ বছরে বিভিন্নভাবে ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করলেও চলেছে ধড়-পাকড়। এরিমধ্যে ২০২৬ এর ৮ এপ্রিল সংসদে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। একইসাথে দল হিসেবে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে আশার সুযোগ নেই বলে হুশিয়ারি করছে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী।

এমন অবস্থায় চলতি বছরের অক্টোবর নাগাদ আসন্ন স্থানীয় সরকার নিয়ে তোড়জোড় চলছে রাজনৈতিক মহলে। ভোটে দলীয় প্রতীক না থাকায় প্রার্থীতার শর্ত পূরণ করা যেকেউ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন। এতে দল হিসেবে আওয়ামীলীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও দলীয় পরিচয়ের বাইরে আওয়ামী সমর্থিত যেকেউ স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

তবে আওয়ামীলীগকে ফ্যাসিবাদ এবং গণহত্যার সাথে সম্পৃক্ত উল্লেখ করে বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দ বলছে, স্থানীয় নির্বাচনের আগে আওয়ামী সংশ্লিষ্টদের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসা জরুরি

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব যোবায়ের বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে কিছু সমস্যা, ত্রুটি, বিচ্যুতি ছিল নির্বাচন কমিশনের। এগুলোর আলোকে নেক্সট স্থানীয় নির্বাচনেও রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে অথবা এ ব্যাপারে যারা স্টেকহোল্ডার আছেন, চিন্তাশীল যারা ব্যক্তি যারা আছেন, সবার সাথে একটু আলোচনা হওয়া উচিত। ফ্যাসীবাদের সাথে সম্পৃক্ত কারো বাংলাদেশের এই ধরণের নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।’

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচনে তারা স্পেসটা করে দেয় তাহলে কিন্তু এটার মধ্যে দিয়ে একটা স্থায়ী পুনর্বাসন হবে। সো এই জায়গায় আমরা চাই যে বিএনপি এতদিনের যে নিপীড়িত ছিল, নির্যাতিত ছিল তাদের সেটা মাথায় থাকবে।’

অন্যদিকে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি বলছে, আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় কেউ স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি খতিয়ে দেখবে সরকার।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘যারা আওয়ামী আমলে এলাকায় নানা ধরণের যদি কুকীর্তির সাথে, অপকর্মের সাথে জড়িত থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই সেটি আইনের আওতায় আসতে হবে এবং তারা নিঃসন্দেহে একটা নির্বাচনের বৈধ পরিবেশের জন্য তারা যে প্রতিযোগিতা করবেন, এই প্রতিযোগিতা করা আইনত উচিত নয় বলে আমি মনে করি।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় কমিশন প্রার্থীর যোগ্যতা বিবেচনায় নিবেন। এক্ষেত্রে আওয়ামীলীগের যেকেউ ভোটে অংশ নিতে পারবে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আব্দুল আলীম বলেন, ‘কমিশন দেখবে তার যোগ্যতা আছে কিনা। কাজেই এখানে তো এইটা মুখ্য বিষয় যে আসতেই পারে না। এখন এখন প্রশ্ন উঠতে পারে যে আওয়ামী লীগের একজন লোক ইলেকশন করতে পারবে কিনা। এখন তার যদি যোগ্যতা থাকে তাহলে তো ইলেকশন সে করবে। এইটা আটকানোর কোনো সুযোগ এখন পর্যন্ত নাই।’

এই বিশ্লেষক মনে করেন, স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় প্রতীক না থাকলেও ভোট দলীয় প্রভাবমুক্ত নয়। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে ইসিকে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে।

নির্বাচন বিশ্লেষক মুনিরা খান বলেন, ‘দলীয়ভাবে না করা হলেও এটা দলীয়ভাবেই হবে। এইটা কেউ ঠেকাতে পারবে না। বাইরের থেকে লোক এসে তো দাঁড়াবে না। লোকাল লোকেরাই তো দাঁড়াবে। তারা এতদিন কোন রাজনীতির সঙ্গে ছিল, তারা রাজনীতি একটু একদম আমি কোনোদিন রাজনীতি করি না আমি হুট করে ইয়েতে ইউনিয়ন পরিষদে দাঁড়িয়ে গেলাম তাই কি হয়? তা তো হবে না।’

স্থানীয় পর্যায়ে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সরকারের সদিচ্ছার পাশাপাশি ইসির যথাযথ পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইএ