প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিপর্যস্ত ও লুণ্ঠিত শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করবো: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন
দেশে এখন
0

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের লুণ্ঠিত ও বিপর্যস্ত শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, আমরা এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা বিনির্মাণ করব, যেখানে শিক্ষার্থীরাই হবে আগামী বাংলাদেশ গড়ার মূল কারিগর ও অগ্রদূত।

আজ (বুধবার, ১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে দেশের ৬৪টি জেলার প্রান্তিক পর্যায়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। বিশেষ করে বর্তমানে দেশের বন্যাকবলিত ৭টি জেলার প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির খুদে শিক্ষার্থীরা প্রবল বন্যা ও নানা প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে অনুষ্ঠানে যোগ দেয়।

তাদের এই উপস্থিতিকে সাধুবাদ জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘এই ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি যে আবেগ, উচ্ছ্বাস ও ভালোবাসা—এটিই প্রমাণ করে একজন জনগণের নেতা যখন রাষ্ট্র পরিচালনায় আসেন, তখন কীভাবে তিনি দেশের মানুষের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন। শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করেছে যে আগামীর বাংলাদেশের কাণ্ডারি তারাই এবং প্রধানমন্ত্রীর সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের রূপকল্প তাদের হাত ধরেই বাস্তবায়িত হবে।’

নির্বাচনি ইশতেহার ও পথযাত্রায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত রূপকল্পের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে আজ দেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে প্রায় ২ লাখ বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।

উপদেষ্টা জানান, এ কর্মসূচি কেবল রোপণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; খুদে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিদ্যালয়ে এই গাছগুলোর পরিচর্যা করবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে উঠবে। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটা শিক্ষাব্যবস্থা চাই যেখানে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে ভ্যালু ও প্রিন্সিপালস (মূল্যবোধ ও নীতি) তৈরি হবে, যার মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের পতাকাকে বিশ্বমঞ্চে আরও উঁচুতে নিয়ে যাবে।’

শিক্ষাক্ষেত্রে জিয়া পরিবার ও বিএনপির ঐতিহাসিক অবদান স্মরণ করে মাহদী আমিন বলেন, ‘আজকের শিক্ষাব্যবস্থায় সবচাইতে বড় ভূমিকা ছিল শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের। তার হাত ধরেই দেশজুড়ে গণশিক্ষার প্রসার ঘটেছিল। আর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে পূর্ণাঙ্গ রূপ পেয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বারবার তৃণমূলে ছুটে গেছেন, প্রান্তিক এলাকা পরিদর্শনের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে চেয়েছেন যাতে সব জায়গায় ভালো শিক্ষক, ভালো শিক্ষার্থী এবং একটি যুগোপযোগী আধুনিক কারিকুলাম থাকে।’

তিনি আরও স্পষ্ট করেন, বর্তমানে সরকার এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করছে যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দসই বিষয়ে পড়ার পূর্ণ স্বাধীনতা পাবে এবং রাষ্ট্র তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেবে।

শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংস্কৃতি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় ঘটানো হচ্ছে বলে জানান উপদেষ্টা। তিনি উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রাথমিক স্তরের ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে একটি সফল ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় আগামীতে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স ফুটবল গোল্ড কাপ’ আয়োজনের জন্য প্রধানমন্ত্রী নিজে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন।

মাহদী আমিন যোগ করেন, প্রতি বছর শিক্ষা পদক দেয়া হলেও এবারের আয়োজনের ভিন্নমাত্রা রয়েছে। গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখছেন, তার অন্যতম ভিত্তি হলো তৃণমূলের ক্ষমতায়ন। দেশের একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ের একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর লক্ষ্য ও স্বপ্নকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি দেয়ার মাধ্যমেই আজ এই দর্শনের বাস্তব প্রতিফলন ঘটেছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

এএইচ