বাড়ছে এলপিজির চাহিদা, সরবরাহ নিশ্চিতে ৪ প্ল্যান্ট নির্মাণের উদ্যোগ

এলপিজি
দেশে এখন
0

জ্বালানি সাশ্রয়ী হিসেবে জনপ্রিয়তা বাড়ছে এলপিজি সিলিন্ডারের। কিন্তু বাড়তি দাম মেটাতে হিমশিম খেতে হয় গ্রাহকদের। আমদানিকারকরা বলছেন, প্রায় ১৭ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে আমদানি অব্যাহত রেখেছেন তারা। তবে অনিশ্চয়তা কাটাতে মোংলা, চট্টগ্রামসহ আরও চারটি প্ল্যান্ট নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের। নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও মূল্য নির্ধারণে কার্যকর নীতিমালার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।

স্বল্প কার্বন নিঃসরণ আর কম দূষণকারী হিসেবে জনপ্রিয় এলপিজি সিলিন্ডার। জ্বালানি সাশ্রয়ী হিসেবে গৃহস্থালি রান্না, ক্ষুদ্র ব্যবসা কিংবা শিল্পখাতে বাড়ছে এর ব্যবহার। ব্যবহৃত হয় মোটরযানের জ্বালানি হিসেবেও।

শহর ছাড়িয়ে গ্রামেও বেড়েছে এলপিজির চাহিদা। প্রাকৃতিক গ্যাস সংযোগের বাইরে থাকা পরিবারগুলোর অন্যতম জ্বালানির উৎস হয়ে উঠেছে এলপিজি। তবে এই বিপুল চাহিদা পূরণের একমাত্র পথ এলপিজি আমদানি।

বর্তমানে বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১৭ লাখ টন এলপিজি ব্যবহৃত হয়। ব্যবহারের ধরণ অনুযায়ী, গৃহস্থালি রান্নায় এলপিজি ব্যবহার প্রায় ৮০ শতাংশ। এছাড়া যানবাহনে ৮ শতাংশ এবং শিল্প ও বাণিজ্য খাতে ব্যবহার হয় ১২ শতাংশ এলপিজি।

দেশে ব্যবহৃত এলপিজির যোগানের প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর। পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৯৮ দশমিক ৩ শতাংশ এলপিজি আসছে বিভিন্ন দেশ থেকে আর অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে যোগান আসে ১ দশমিক ৭ শতাংশের মতো।

এমন অবস্থায় বিশ্ববাজারের সঙ্গে দাম সমন্বয়ে হিমশিম খেতে হয় ডিলার ও গ্রাহকদের। তাদের দাবি, এলপিজি দৈনন্দিন কাজকে সহজ করেছে ঠিকই, তবে ন্যায্য দাম নিশ্চিতে নজরদারি বাড়ানো জরুরি।

বিক্রেতাদের একজন বলেন, ‘আগে পণ্যর রেট ছিলো কম, তো মানুষজন হিউজ পরিমাণ ইউজ করতো।তখন আমরা বেশি পরিমাণে আমাদের আনা লাগতো। কিন্তু এখন বিভিন্ন কোম্পানি বের হওয়ার পর একটা কোম্পানির এক রকম রেট রাখে।’

হিসাব বলছে, গেল কয়েক বছরে দেশে বেড়েছে এলপিজি আমদানির পরিমাণ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে সরবরাহ হয়েছে প্রায় ১৭ দশমিক ৬৩ লাখ টন এলপিজি। যা আগের অর্থবছরে ছিল ১৫ দশমিক ৮৯ লাখ টন। এছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ১৪ দশমিক ২৬ লাখ টন। ২০২১-২২ অর্থবছরে সরবরাহ হয় ১৪ দশমিক ২৮ লাখ টন এলপিজি।

দেশে ২৩টি বেসরকারি কোম্পানি এলপিজি আমদানি করলেও হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানই বাজারের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করছে। এলপিজি আমদানিকারকদের সংগঠন এলপিজি অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) বলছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধসহ নানা সংকটের মাঝেও পর্যাপ্ত সরবরাহ দিতে এলপিজির আমদানি অব্যাহত আছে। এলপিজি খাতের অনিশ্চয়তা কাটাতে বিকল্প বাজার তৈরির পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।

আরও পড়ুন:

লোয়াব সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশিদ বলেন, ‘আমরা যারা লাইসেন্সি ইম্পোর্ট করি, আমদানি করি, বাজারজাতকরণ করি, আমরা এই দামে কিন্তু এর চাইতে কম দামে বাজারে সরবরাহ রেখেছি এখন। আমরা এটা ডিলার-ডিসট্রিবিউটর পয়েন্ট পর্যন্ত পৌঁছে দেই, এরপর এটা রিটেইলার পয়েন্টে যায় এবং রিটেইলারের এখানে প্রতিনিয়ত খরচ বাড়ছে। গ্রামের পর্যায়ে যারা নিম্ন আয়ের মানুষ তাদের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিবেন। এটা একটা মহতী উদ্যোগ। এটা যদি করেন সরকার, এটা একটা পলিসি গাইডলাইনের আন্ডারে করলে মনে হয় সবার জন্যই ভালো হবে।’

এদিকে, এলপিজির যোগান বাড়াতে বেসরকারি কোম্পানির পাশাপাশি আমদানির অনুমোদন পেয়েছে বিপিসিও। তবে সংস্থাটির বাজারজাতকরণের সক্ষমতা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন।

তবে বিপিসি বলছে, প্রাথমিক পর্যায়ে মোংলা, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা ও চট্টগ্রামে প্লান্ট নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। যা ভবিষ্যতে চাহিদা পূরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বিপিসি পরিচালক রেজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের যে প্ল্যান্ট আপাতত আছে সেখানে যে স্টোরেজ ক্যাপাসিটি, ৩ শত মেট্রিক টনের স্টোরেজ ক্যাপাসিটি। ওটাকে আমরা আরও দুইটি ট্যাংক, যেটা হবে হলো ১০৫০ করে। দুইভাবে এলপিজি এনে মার্কেটিংয়ের চিন্তাভাবনা এখনো পর্যন্ত। বেসরকারি অপারেটরস যারা আছেন, উনারাও আমাদের কাছ থেকে র মেটেরিয়ালটা নিতে পারেন, এলপিজিটা নিতে পারেন। এরপরে বাকিটা আমরা নিজেরাও বোতলিং করে বাজারে ঢুকব।’

এলপিজির চাহিদা পূরণে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও মূল্য নির্ধারণে বিইআরসিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হবার পরামর্শ জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের।

ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম বলেন, ‘বাজার নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্র করবে এবং তার নির্ধারিত প্রাইসে, মূল্যহারে বাজারে কেনাবেচা হবে। সেই নির্ধারিত মূল্যহার স্বচ্ছ এবং ন্যায্য ও যৌক্তিক হতে হবে। সেই ন্যায্য, স্বচ্ছ ও যৌক্তিক করার জায়গাটাই বিপত্তি ঘটে গেছে।’

প্রাকৃতিক গ্যাসের বিকল্প হিসেবে এলপিজিকে নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের সঙ্গে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের তাগিদ সংশ্লিষ্টদের।


এফএস