পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিশ্চিত করতে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনে কাজ করছে সরকার: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক
দেশে এখন
0

পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। জানান, বায়োগ্যাস ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবারের জ্বালানি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব। একইসঙ্গে গবাদিপশুর গোবর, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা ও অন্যান্য জৈব বর্জ্য কাজে লাগিয়ে পরিবেশদূষণ রোধ, জৈব সার উৎপাদন এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা যাবে।

আজ (মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর) দুপুরে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিণাফুলিয়ায় জেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, বরিশালের আয়োজনে বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে বিকল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে গ্রামীণ পরিবারগুলো নিজেদের জ্বালানির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারবে। সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে এবং টেকসই গ্রামীণ অর্থনীতি গড়ে তোলার পথ আরও সুগম হবে।’

বরিশাল অঞ্চলে ইতোমধ্যে প্রায় ৮১টি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের মাধ্যমে উৎপাদিত গ্যাস নিজেদের পরিবারের চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত গ্যাস প্রতিবেশী বা আশপাশের অন্য পরিবারের কাছে সরবরাহ করে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। এতে একদিকে পরিবারের রান্নার জ্বালানি খরচ কমবে, অন্যদিকে উদ্যোক্তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।’

আরও পড়ুন:

বায়োগ্যাস উৎপাদনের সম্ভাবনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু গরুর গোবর নয়, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা ও অন্যান্য জৈব বর্জ্য ব্যবহার করেও বায়োগ্যাস উৎপাদন করা যায়। বিশেষ করে হাঁস-মুরগির খামারের বর্জ্য কাজে লাগিয়ে খামারিরা নিজেদের জ্বালানির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন। এ ব্যবস্থায় বর্জ্যের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশদূষণ ও দুর্গন্ধ কমানো এবং জৈব সার উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে।’

এসময় তিনি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের স্বাবলম্বী করে তুলতে সবজি চাষ, মৎস্য চাষ, কুটির শিল্প, পারিবারিক হাঁস-মুরগি পালন ও পোল্ট্রি ফার্মসহ বিভিন্ন খাতে মোট আটজন উপকারভোগীর মধ্যে ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার ঋণের চেক বিতরণ করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারের সভাপতিত্বে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক এ কে এম মফিজুল ইসলাম বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। এসময় বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোছা. ফরিদা সুলতানা, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণার্থী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাসহ গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এসএস