মাথায় হেলমেট, হাতে লাঠি বা পাইপ, কারো কারো হাতে দেশিয় অস্ত্র। সম্প্রতি ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বেশ কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষে দেখা যায় এমন চিত্র। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এমন বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার খবর পাওয়া গেলেও গত কয়েকদিনের ধারাবাহিক সংঘর্ষে আবারও আলোচনায় ছাত্র রাজনীতি।
ঘটনার সূত্রপাত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে। গত ৩ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ছাত্রশিবিরের একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা জড়িয়ে পড়েন সংঘর্ষে। সংঘর্ষে দুই সংগঠনেরই বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীও আহত হন। পরদিনই এর রেশ একে একে ছড়িয়ে পড়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা, ঢাকা কলেজসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। ভাঙচুর করা হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও।
পতিত আওয়ামী সরকারের আমলে এ দুই সংগঠনের নেতাকর্মীরা কোনো ক্যাম্পাসেই সঠিকভাবে তাদের রাজনৈতিক চর্চা করতে পারেনি। বিভিন্ন সময় দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছেন তারা। জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার সঙ্গে হাসিনার পতনে বড় ভূমিকা রাখে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। আওয়ামী আমলে আন্দোলন-সংগ্রামে এক পথে হাঁটা, নিপীড়নের শিকার হওয়া সংগঠন দুটির মধ্যে হঠাৎ কেন এমন বিভক্তি? প্রশ্ন ছিলো সংগঠন দুটির নেতাদের কাছে। তবে এ সংঘাতের পেছনে একে অপরকেই দায়ী করছেন তারা।
আরও পড়ুন
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি মনজুরুল আলম রিয়াদ বলেন, ‘৫ই আগস্টের পর যখন আমরা ভাবছিলাম যে নতুন রাজনীতি শুরু হবে, কিন্তু সেটা আমরা শিবিরের কাছ থেকে পাইনি। শিবিরের পূর্বনির্ধারিত প্রোগ্রাম ছিলো। শিবিরের, তখন বিভিন্ন ইউনিট থেকে এখানে লোক জড় হয়েছিল। তারা এ ঘটনাকে সামনের দিকে এগোতে না দিয়ে তারা সরাসরি কোনো আলোচনায় না গিয়ে সরাসরি ছাত্রদলের ওপর হামলা করে বসে।’
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই প্রত্যেকটা জায়গায় ইসলামী ছাত্রশিবিরকে থাকতে দেবে না, একনায়কতন্ত্র কায়েম করবে এবং তাদের কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ, তারা যদি এখন, ক্যাম্পাসে থাকতে পারে, ছাত্রশিবির না থাকে, তাহলে টেন্ডার যেগুলো আছে, নিয়োগ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে, ভর্তি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে, এরপর হল দখল করে তাদের পছন্দের লোকগুলোকে হলে ওঠানো করা যাবে।’
সম্প্রতি ছাত্র সংগঠন দুটির এমন সংঘাত নিয়ে জানতে চেয়েছিলাম রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে। তাদের মতে ক্যাম্পাসগুলোতে নিয়ন্ত্রণ নিতেই পুরনো ধারায় ফিরছে ছাত্র সংগঠনগুলো। এমনকি এর পেছনে অর্থনৈতিক কারণও থাকতে পারে। তবে এমন চিত্র ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকলে আবার ফুঁসে উঠতে পারে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘একেক জন রাজনীতিবিদরা যখন সমস্ত ঝগড়া-ফ্যাসাদ করবে, বিষোদগার করবে, ক্যাম্পাসে তখন এরা এদের দলগুলো মারামারি করবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীরা কিন্তু সাংঘাতিক জীবনবাদী। যখন দেখবে যে আমাদের জীবন সংকটাপন্ন, তখন তারা বিএনপি-ও বুঝবে না, শিবির-ও বুঝবে না। তখন তারা তাদের মতো করে রিভোল্টও করতে পারে।’
এ বিশ্লেষক আরও বলেন, ক্যাম্পাসগুলোর এ অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে না আনা গেলে সরকারি দলের জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে, রাজনৈতিক ব্যক্তিরা পুরানো সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এলে অনেকটাই ছাত্র রাজনীতি শুধরে যাবে বলেও মনে করেন তারা।





