ডিপো সূত্রে জানা যায়, গতকাল (সোমবার, ৯ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভারতের শিলিগুড়ি মার্কেটিং টার্মিনাল থেকে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে পার্বতীপুর ডিপোর উদ্দেশে ডিজেল পাঠানো শুরু হয়। প্রথম পর্যায়ে প্রায় পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি একই ডিপোতে আরও পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলের একটি চালান এসে পৌঁছায়। জ্বালানি তেলের বর্তমান চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারের কাছে অতিরিক্ত ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ভারত–বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে নির্মিত প্রায় ১৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্ডারগ্রাউন্ড এই পাইপলাইনটি ভারতের শিলিগুড়ি মার্কেটিং টার্মিনাল থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপো পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে এবং ২০২৩ সালের মার্চে এটি উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ডিজেল আমদানি শুরু হয়।
আরও পড়ুন:
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে সর্বোচ্চ ১০ লাখ মেট্রিক টন পর্যন্ত ডিজেল সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে।
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বিপিসির রেলহেড ডিপো থেকে প্রতিদিন রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানা গেছে।
ডিপো সূত্রে আরও জানা যায়, বর্তমানে সেখানে প্রায় ৪৫ লাখ লিটার জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে। তবে কেউ যাতে অতিরিক্ত তেল মজুদ করতে না পারে সেজন্য পেট্রোল পাম্পগুলোকে চাহিদার তুলনায় কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
এদিকে পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে আসা চালক ও হেলপাররা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তারা প্রয়োজনীয় তেল পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে চাহিদার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ তেল দেয়া হচ্ছে, যা দিয়ে পাম্পগুলোর চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় ডিপোতে কর্মরত শ্রমিকদের ওপরও প্রভাব পড়েছে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন যেখানে ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০টি গাড়িতে তেল লোড করা হতো, বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১০০ থেকে ১৫০টিতে। এতে প্রায় ১৭০০ শ্রমিকের কাজ কমে গেছে এবং অনেকেই ঈদের আগে কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বলে জানান শ্রমিক নেতারা।
আরও পড়ুন:
পার্বতীপুর ডিপোর ইনচার্জ আহসান হাবিব বলেন, ‘বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। তাই কেউ যাতে অতিরিক্ত তেল মজুদ করতে না পারে, সে জন্য পাম্পগুলোতে সীমিত পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।’
তবে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে নতুন চালান আসা শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 founder Abhijeet Dipke-320x167.webp)



