আরও পড়ুন:
গণভোট কী এবং কেন? (Understanding Referendum & Its Importance)
গণভোট (Referendum) হলো এমন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া যেখানে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা সাংবিধানিক ইস্যুর ওপর জনগণ সরাসরি তাদের রায় প্রদান করে। সংসদ নির্বাচনে আমরা ব্যক্তি বা প্রার্থীকে ভোট দিই, কিন্তু গণভোটে ভোট দেয়া হয় একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব বা নীতির (Proposals or Policies) পক্ষে অথবা বিপক্ষে।
কেন এই গণভোট প্রয়োজন?
সংবিধান সংস্কার (Constitutional Reform): ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা পূরণে রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে এই ভোট।
জনগণের সার্বভৌমত্ব (People's Sovereignty): কোনো স্পর্শকাতর জাতীয় ইস্যুতে জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট (Mandate) নেওয়া।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা (Transparency & Accountability): সংবিধান পরিবর্তনের মতো বড় সিদ্ধান্তে সকল নাগরিকের মতামত নিশ্চিত করা।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
গণভোটের ধাপসমূহ (Process of Referendum)
১. ইস্যু নির্ধারণ ও প্রস্তাব: বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নামক একটি রূপরেখা তৈরি করেছে। এই সনদের ওপর জনগণের সম্মতি নিতেই আজকের গণভোটের আয়োজন।
২. আইনি ভিত্তি: গণভোট আয়োজনের জন্য ‘গণভোট আইন ও বিধিমালা ২০২৫’ (Referendum Act & Rules 2025) পাস করা হয়েছে, যা এই প্রক্রিয়ার আইনি কাঠামো নিশ্চিত করে।
৩. ব্যালট ও প্রশ্ন: ব্যালট পেপারে একটি সমন্বিত প্রশ্ন করা হয়েছে—আপনি জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাবসমূহের প্রতি সম্মতি দিচ্ছেন কি না? এর উত্তর কেবল ‘হ্যাঁ’ (Yes) অথবা ‘না’ (No) দিয়ে নির্ধারণ করতে হবে।
৪. নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা: সাধারণ নির্বাচনের মতোই নির্বাচন কমিশন (EC) ভোটার তালিকা হালনাগাদ করেছে এবং একই ভোটকেন্দ্রে গণভোটের জন্য আলাদা বুথ বা ব্যবস্থা রেখেছে।
৫. ভোট প্রদান: ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের এনআইডি বা স্লিপের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করে একটি গোলাপি ব্যালট (Pink Ballot) গ্রহণ করবেন এবং পছন্দ অনুযায়ী সিল মারবেন।
৬. ফল ও গেজেট: বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে ভোট শেষ হলে গণনা শুরু হবে। অধিকাংশ ভোট যে পক্ষে পড়বে, তা-ই দেশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে গৃহীত হবে এবং নির্বাচন কমিশন তা গেজেট আকারে প্রকাশ করবে।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
কী থাকবে ব্যালট পেপারে?
ব্যালট পেপারের নিচে দুটি নির্দিষ্ট ঘর থাকবে:
১. ‘হ্যাঁ’ ঘর: এই ঘরের পাশে একটি টিক চিহ্ন ($\checkmark$) থাকবে। আপনি সংস্কারের পক্ষে হলে এখানে সিল দেবেন।
২. ‘না’ ঘর: এই ঘরের পাশে একটি ক্রস চিহ্ন ($\times$) থাকবে। আপনি সংস্কারের বিপক্ষে হলে এখানে সিল দেবেন।
ব্যালট পেপারের গঠন ও মূল প্রশ্ন (Referendum Ballot Content)
ব্যালট পেপারের শুরুতেই একটি প্রধান প্রশ্ন থাকবে: ‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংশোধন) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে নিম্নলিখিত সাংবিধানিক সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবসমূহের প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করিতেছেন?’
এই প্রশ্নের নিচে ৪টি প্রধান স্তম্ভ (Pillars) বা প্রস্তাবনা উল্লেখ থাকবে:
ক. নতুন কাঠামো: জুলাই সনদের আলোকে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠন।
খ. দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ: ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠন এবং সংবিধান সংশোধনে তাদের ক্ষমতার প্রয়োগ।
গ. মৌলিক সংস্কার: প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ (সর্বোচ্চ ১০ বছর), বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং নারী প্রতিনিধি বৃদ্ধি নিশ্চিতকরণ।
ঘ. অঙ্গীকার বাস্তবায়ন: রাজনৈতিক দলগুলোর দেয়া অন্যান্য সংস্কার প্রতিশ্রুতি জুলাই সনদ অনুযায়ী বাস্তবায়ন।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:





