জাতীয় সংসদের সম্ভাব্য উচ্চকক্ষে কোন দল কত আসন পাবে?

সংসদ
রাজনীতি , সংসদ নির্বাচন
দেশে এখন
0

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (13th National Parliamentary Election) নিরঙ্কুশ জয়ের পাশাপাশি জুলাই সনদ (July Charter) বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত গণভোটের (Referendum) ফলাফল বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গণভোটে ৬৮ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ায় এখন প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ আসনের একটি উচ্চকক্ষ (Upper House) গঠন করা বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিএনপি ও অন্যান্য দলের মধ্যে ভিন্নমত লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:

ভোটের শতাংশ ও উচ্চকক্ষের সম্ভাব্য আসন (Vote Percentage and Seat Calculation)

নির্বাচন পরবর্তী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বড় পাঁচটি দল সম্মিলিতভাবে ৮৯.৫৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। সংবিধান সংস্কার কমিশনের (Constitution Reform Commission) প্রস্তাবনা অনুযায়ী, অন্তত ১ শতাংশ ভোট পাওয়া দলগুলোই উচ্চকক্ষে আসন পাবে। সেই হিসেবে আসন বণ্টন নিম্নরূপ হতে পারে:

  • বিএনপি (BNP): এককভাবে ৪৯.৯৭ শতাংশ ভোট পাওয়ায় উচ্চকক্ষে দলটির আসন সংখ্যা দাঁড়াবে ৫৬টি।
  • জামায়াতে ইসলামী (Jamaat-e-Islami): ৩১.৭৬ শতাংশ ভোট পেয়ে উচ্চকক্ষে ৩৬টি আসন পেতে যাচ্ছে।
  • এনসিপি (NCP): ৩.০৫ শতাংশ ভোট নিয়ে তারা পাবে ৩টি আসন।
  • ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ: ২.৭ শতাংশ ভোট পেয়ে উচ্চকক্ষে ৩টি আসন পাবে।
  • বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস: ২.০৯ শতাংশ ভোট পাওয়ায় দলটির জন্য বরাদ্দ হবে ২টি আসন।

আরও পড়ুন:

উচ্চকক্ষ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের অবস্থান (BNP and Jamaat Stance on Upper House)

উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে প্রধান দুই দলের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। বিএনপি (BNP) চায় সংসদীয় আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করতে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman) এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বিএনপির প্রস্তাব মানলে প্রতি ৩টি সংসদীয় আসনের বিপরীতে ১টি উচ্চকক্ষ আসন বণ্টন হবে। এতে ক্ষুদ্র দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, জুলাই সনদে যেহেতু ভোটের অনুপাতের কথা বলা হয়েছে এবং গণভোটে মানুষ ‘হ্যাঁ’ বলেছে, তাই ভোটের অনুপাতই (Proportional Representation) আসন বণ্টনের ভিত্তি হওয়া উচিত।

আরও পড়ুন:

জুলাই সনদ ও সংস্কার বাস্তবায়ন (July Charter and Reforms Implementation)

গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী, ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৩৮টি বাস্তবায়ন করা এখন রাজনৈতিক ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা। এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার (Caretaker Government) গঠন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কমিশনে নিয়োগ প্রক্রিয়া সংস্কার অন্তর্ভুক্ত। তবে বাকি ১০টি বিষয়ে বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (Note of Dissent) থাকায় সেগুলো বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক নয়।

রাজনৈতিক দল (Political Party) প্রাপ্ত ভোট (%) উচ্চকক্ষে আসন (Seats) অবস্থা (Status)
বিএনপি (BNP) ৪৯.৯৭% ৫৬ সংখ্যাগরিষ্ঠ (Majority)
জামায়াতে ইসলামী ৩১.৭৬% ৩৬ দ্বিতীয় বৃহত্তম
এনসিপি (NCP) ৩.০৫% ০৩ প্রতিনিধিত্বশীল
ইসলামী আন্দোলন ২.৭% ০৩ প্রতিনিধিত্বশীল
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২.০৯% ০২ প্রতিনিধিত্বশীল

আরও পড়ুন:

এসআর