বগুড়া ও কলকাতায় শৈশব ও কৈশোর অতিবাহিত করার পর জিয়াউর রহমান পিতার সঙ্গে তার কর্মস্থল করাচিতে চলে যান। শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৫৫ সালে তিনি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করেন। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অধিকারী শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের গণমানুষের কাছে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃত হয়েছেন।
একজন সৈনিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও তার জীবনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে দেশের সকল সঙ্কটে তিনি ত্রাণকর্তা হিসেবে বার বার অবতীর্ণ হয়েছেন। দেশকে সংকট থেকে মুক্ত করেছেন। অস্ত্র হাতে নিয়ে নিজে যুদ্ধ করেছেন। যুদ্ধ শেষে আবার পেশাদার সৈনিক জীবনে ফিরে গেছেন।
জিয়াউর রহমান সময়ের প্রয়োজনেই প্রায় সাড়ে চার দশক আগে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। তার গড়া সে রাজনৈতিক দল তার সহধর্মিণী সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃত। আর খালেদা জিয়া দেশের জনপ্রিয় নেতৃত্বে পরিণত হন। জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তা এবং খালেদা জিয়ার নিজস্ব নেতৃত্ব গুণে তিন তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
অসাধারণ দেশপ্রেমিক, অসম সাহসিকতা, সততা-নিষ্ঠা ও সহজ-সরল ব্যক্তিত্বের প্রতীক জিয়াউর রহমানের অবদান দেশের জন্য অসামান্য। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধে খেমকারান সেক্টরে অসীম সাহসিকতার সাথে তিনি যুদ্ধ করেন।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধ পরিচালনা করেন তিনি। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশীদের বিশ্ব মানচিত্রে তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিত করিয়েছেন স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যে। জাতির মর্যাদাকেও বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত করেছেন তার শাসনামলে।
জিয়াউর রহমানের সৈনিক ও রাজনৈতিক জীবনের সততা, নিষ্ঠা ও নিরলস পরিশ্রম প্রতিটি মানুষ শ্রদ্ধাভরে এখনো স্মরণ করে। একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক হিসেবেও তার পরিচিতি সর্বজনবিদিত। সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন ও দিক-নির্দেশনা। তার প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল বিএনপি দেশের স্বাধীনতা পরবর্তীকালে কয়েকবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিল।
শহীদ জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকীতে বিএনপির দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা:
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দুই দিনের বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির কথা জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। দল ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের জন্য এসব কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন অর্থাৎ আগামীকাল ১৯ জানুয়ারি বেলা ১১টায় শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এদিন দলের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, এই শ্রদ্ধা নিবেদন ও মোনাজাত কর্মসূচিতে দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া দিনটি উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিসহ নানা সেবামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা দিনব্যাপী পালিত হবে।
কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন আগামী ২০ জানুয়ারি বেলা ১১টায় জিয়াউর রহমানের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন ও রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বিএনপি। এই আলোচনা সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন এবং বক্তব্য রাখবেন।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের এ কর্মসূচিগুলো সফল করার আহ্বান জানান এবং অঙ্গ সংগঠনগুলোকে নিজেদের উদ্যোগে কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেন।





