রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কার ইস্যু যখন জাতীয় সংসদে উত্তাপ ছড়াচ্ছে, তখন রাজপথেও শক্তি দেখানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।
গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নসহ ছয় দফা দাবিতে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রাম লালদিঘী ময়দানের উদ্দেশে যাত্রা করবে লংমার্চ। পর্যায়ক্রমে রংপুর, খুলনা ও সিলেট অভিমুখেও রয়েছে একই কর্মসূচি।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মনে করেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চলমান এই আন্দোলন। তবে এর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সরকারের সদিচ্ছার উপর।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘৫ সেপ্টেম্বর থেকে লংমার্চ ঘোষণা করেছি। চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে এটা শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগগুলোতেও এটা যাবে। ফলে এই লংমার্চ আমাদের চলমান থাকবে এবং ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে এই গণভোটের গণরায়ের বাস্তবায়নের দাবিতে।’
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, আন্দোলনের মাধ্যমেই গণরায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে। তবে এটা সরকার পতনের আন্দোলন নয় বলে সাফ জানান তিনি।
আরও পড়ুন:
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা এই আন্দোলন কিন্তু পতনের জন্য, উৎখাতের জন্য অথবা এই যে লম্বা লংমার্চ, মিটিং, মিছিল, বিভাগীয় সমাবেশ এর একটাই প্রধান ইস্যু সূচনা হয়েছিল যে, গণভোটের গণরায়টা না মানার কারণে সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করা যে, তোমরা ৭০ ভাগ মানুষের ভোটকে অস্বীকার করছো। শান্তিপূর্ণ স্থিতিশীল দেশ আমরা বহু রক্তের বিনিময়ে করেছি। আর কত রক্ত, কত আন্দোলন আর যেন করা না লাগে। আমরা এখনো রেডি। কিন্তু সরকার যদি সাহায্য না করে, একতরফা তো সাহায্য হবে না। সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে।’
সংস্কার ইস্যুতে বিরোধীদলের আন্দোলনকে যৌক্তিক বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. সাব্বীর আহমেদ। তার মতে, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে দ্বিমুখী আচরণ করছে বিএনপি। আগামী নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও আশঙ্কা তার।
ড. সাব্বীর আহমেদ বলেন, ‘বিএনপিও তো জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী একটা দল। যদি তাই হয় বিএনপি মানবে না কেন? তার না মানার কী আছে? যখন সামনে আবার নির্বাচন হবে, তখন বিএনপিকে এই প্রচারণার শিকার হতেই হবে যে, তারা প্রতারণা করছে গণভোটের নামে আরকি। তাই না? সুতরাং তারা ইচ্ছে করে তাদের কপালে রাজনৈতিক দুর্নাম তারা লিখে নিলো।’
সংশোধনের বাইরে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে রাজপথে বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচিকে সরকার ও বিরোধী জোটের মুখোমুখি রাজনৈতিক অবস্থানের প্রথম বড় পরীক্ষা হিসেবেও দেখছেন অনেকে।





