তারেক রহমান বলেন, ‘ঢাকা-৮ আসনসহ সারা দেশেই তরুণ-যুবকদের কর্মসংস্থানের সমস্যা রয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে বিএনপি সুস্পষ্ট কর্মসূচি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আমরা আগামী পাঁচ বছরে ইনশা আল্লাহ এক কোটি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবো।’
তিনি জানান, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করা হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আহ্বান জানিয়ে নতুন মিল-কারখানা স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে একদিকে বেকারত্ব কমবে, অন্যদিকে অর্থনীতিতে গতি আসবে। পাশাপাশি ঢাকা-৮সহ দেশের সব জেলায় ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, টেকনোলজিক্যাল ও আইটিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে, যাতে ছেলে-মেয়ে সবাই দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এবং দেশে বা দেশে থেকেই নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে।
বিদেশগমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী বিদেশে কাজ করছেন। অনেকেই অর্থসংকটে বিদেশ যাওয়ার আগে বাপ-দাদার জমি বিক্রি করতে বাধ্য হন। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি—যারা দক্ষ হয়ে বিদেশে যেতে চান, কিন্তু অর্থের অভাবে পারছেন না, তাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। তারা বিদেশে কাজ করে ধীরে ধীরে সেই ঋণ পরিশোধ করবেন, কিন্তু জমি বিক্রি করতে হবে না।’
আরও পড়ুন:
একই সঙ্গে বিএনপি সরকার গঠন করলে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিয়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে বলেও জানান তিনি।
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। ইমাম-মোয়াজ্জিনসহ সব ধর্মগুরুদের জন্য সম্মানী ভাতা চালু করা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করা, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরাও দলের অগ্রাধিকার।’
তিনি বলেন, ‘আমি দলের পরিকল্পনা তুলে ধরলাম। ১২ তারিখে আপনাদের পরিকল্পনা কী, সেটাও জানতে চাই।’
এসময় হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক একযোগে স্লোগান দেন—‘ধানের শীষ, ধানের শীষ।’
বিএনপি নির্বাচিত হলে ঢাকা-৮ আসনে খেলার মাঠ নির্মাণ, কবরস্থানের জন্য জায়গা বরাদ্দ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। পরে তিনি মির্জা আব্বাসের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে তাকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন:
এর আগে, বনানীর কামাল আতাতুর্ক মাঠে জনসভার মাধ্যমে ঢাকা মহানগরে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন তারেক রহমান। এরপর ঢাকা-১০ আসনে কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেন এবং সেখান থেকে ঢাকা-৮ আসনে আসেন।
‘ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং রুখতে হবে’
ঢাকা-৮ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘১৭ বছর রাজপথে আন্দোলন, নির্যাতন, গুম-খুন সহ্য করে আমরা ভোটের অধিকার আদায় করেছি। এখন সেই ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ছিনতাই করার ষড়যন্ত্র চলছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা পোলিং সেন্টার পাহারা দেবো। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইলে, সে সরকারি বা বেসরকারি যেই হোক—কাউকে সুযোগ দেয়া হবে না।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে ঢাকা-৮ আসনের গ্যাস-পানি, জলাবদ্ধতা, তরুণদের বেকারত্ব, খেলার মাঠ ও কবরস্থানের জায়গার সমস্যা সমাধান হবে। জনসভায় মির্জা আব্বাসের সহধর্মিণী, মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসও উপস্থিত ছিলেন।
‘গুপ্ত ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকুন’
এর আগে, ঢাকা-১০ আসনের কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠের জনসভায় তারেক রহমান বলেন, ‘নকল ব্যালেট সিল তৈরির সময় একটি মহলের নেতাকর্মীরা ধরা পড়েছে। তাই সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা বাসাবাড়িতে গিয়ে মা-বোনদের বিভ্রান্ত করে বিকাশ বা এনআইডি নম্বর চাইছে—তাদের বিরুদ্ধেও সতর্ক থাকতে হবে। নইলে শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভোটাধিকার আবার হারিয়ে যাবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যদি সতর্ক থাকি, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না। আজ আমাদের শপথ নিতে হবে—যে কোনো মূল্যে জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করব।’
দিনের শেষভাগে তারেক রহমানের গাড়িবহর ঢাকা-৯, ঢাকা-৫, ঢাকা-৪, ঢাকা-৬ ও ঢাকা-৭ আসনে পৃথক পথসভায় বক্তব্য দেয়ার উদ্দেশে রওনা হয়।





