একজন কিংবদন্তির পায়ের জাদুতে মুগ্ধ পুরো পৃথিবী, তখনও তার কাছে সবচেয়ে বড় আশ্রয় ছিলেন একজন বাবা হোর্হে মেসি। আর সেই বাবাকেই শেষ বিদায় জানাতে এবার নীরবে, আড়ালে নিজের শহর রোজারিওতে ফিরলেন লিওনেল মেসি।
নিরাপত্তার কড়া বেষ্টনী, চারপাশে নীরবতা, নেই কোনো সংবর্ধনা জাঁকজমক আয়োজন, আছে শুধু বাবাকে হারানোর গভীর শোক।
গত শনিবার (৮ আগস্ট) ভোরে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ৬৮ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হোর্হে মেসি। খবর পাওয়ার পরই যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্ত্রী আন্তোনেলা, সন্তানদের নিয়ে প্রাইভেট বিমানে রোজারিওর পথে রওনা হন মেসি।
আরও পড়ুন
গতকাল (রোববার, ৯ আগস্ট) ‘এল প্রাডো’ ব্যক্তিগত কবরস্থানে মায়ের সঙ্গে ভাই-বোনদের নিয়ে বাবাকে শেষ বিদায় জানান আর্জেন্টাইন মহাতারকা। পরিবারের এ কঠিন সময়ে যাতে কোনো বাইরের হস্তক্ষেপ না থাকে, দুপুর থেকেই বন্ধ করে দেয়া হয় কবরস্থানে সাধারণের প্রবেশ।
তবুও দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন মেসির ভক্তরা। কারও হাতে ফুল। আবার কারও হাতে ব্যানার। একটিতে লেখা ‘শক্ত থাকো লিও, আমরা তোমাকে ভালোবাসি।’
যে বাবা ছোট্ট লিওকে হাত ধরে ফুটবলের মাঠে নিয়ে গিয়েছিলেন, সেই হোর্হের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে মেসির শৈশবের ক্লাব আবানদেরাদো গ্রানদোলিও। মাত্র চার বছর বয়সে যে ক্লাবে মেসির ফুটবলের পথচলা শুরু, সেই ক্লাবের স্মৃতিতে আজও জড়িয়ে আছেন হোর্হে।
আর্জেন্টিনার ফুটবল অঙ্গনেও নেমেছে শোকের ছায়া। হোর্হের স্মরণে দেশের সব পেশাদার ও যুব ম্যাচের আগে পালন করা হচ্ছে এক মিনিটের নীরবতা। খেলোয়াড় ও কোচদের পরতে হচ্ছে কালো আর্মব্যান্ড।
বিশ্বের কোটি মানুষের প্রিয় মেসি হয়তো মাঠে অসংখ্য জয় উপহার দিয়েছেন। কিন্তু জীবনের এ ম্যাচে তিনি আজ একেবারেই অসহায়।
বাবাকে হারানোর এ শোকের সময়ে পুরো ফুটবল বিশ্ব যেন একসঙ্গে বলছে, ‘শক্ত থাকো লিও’।




