লাল বলের ক্রিকেটে জাতীয় দল কিংবা কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্টের হয়ে অসাধারণ বোলিং-সব মিলিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের গ্রাফটা বেশ কিছুদিন ধরেই উঁচুতে রাখছিলেন পেসার হাসান মাহমুদ। এবার নতুন করে আরও একবার জ্বলে উঠলেন ডান হাতি এ পেসার।
আবুধাবি টেস্টের তৃতীয় দিন ৮৩তম ওভার। হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে অফস্ট্যাম্প উপড়ে ফেলেন আফগান ব্যাটার ইসমত আলমের। পরের বলেই গতি আর সুইংয়ের মায়াজাল। কায়েস আহমেদকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে হ্যাটট্রিকের পথ সুগম করেন এই পেসার।
এরপরই নাটকের আসল দৃশ্যপট। হ্যাটট্রিক বলে জিয়াউর রহমানের বিপক্ষে জোরালো আবেদন হলেও আম্পায়ার সাড়া দেননি। কালক্ষেপণ না করে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত নেন রিভিউ। থার্ড আম্পায়ারের রিপ্লেতে দেখা যায় বল স্পর্শ করেছে প্যাড, আছড়ে পড়ত অফস্টাম্পে। আম্পায়ার সিদ্ধান্ত বদলাতেই ইতিহাস গড়া উল্লাসে মেতে ওঠে পুরো বাংলাদেশ দল।
২০০৩ সালে পেশোয়ারে অলক কাপালি আর ২০১৩ সালে সোহাগ গাজীর পর বাংলাদেশের ক্রিকেটে তৃতীয় টেস্ট হ্যাটট্রিকে নাম লেখান হাসান মাহমুদ। তবে পেসার হিসেবে প্রথম। যেটি দেশের পেস বোলিংয়ের এক নতুন ভোরের গল্প।
বিশ্ব টেস্ট ক্রিকেটে হাসানের এ হ্যাটট্রিকটা একটু আলাদা অন্য কারণেও। বিশ্ব টেস্ট ক্রিকেটের দেড়শ বছরের ইতিহাসে হাসানের এই হ্যাটট্রিকটা ছিলো ৫০তম।
হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি হাসান মাহমুদ তুলে নিয়েছেন তার ১৭ টেস্টের ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফাইফার। আর পঞ্চম উইকেটটা ছিল তার ক্যারিয়ারের ৫০তম উইকেট। সেখানেও রেকর্ড গড়েছেন তিনি। টেস্টে বাংলাদেশের পেসারদের পক্ষে দ্রুততম ফিফটি উইকেট শিকারের কীর্তিটাও এখন হাসান মাহমুদেরই।





