মেটলাইফ থেকে টিএসসি: পেনাল্টি মিসের খেসারত ও এক বিষাদময় মধ্যরাত

টিএসসিতে ব্রাজিল সমর্থকদের ভিড়
World Cup , ফুটবল
এখন মাঠে
0

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন অপূর্ণ রেখেই শেষ ষোলোর মঞ্চ থেকে বিদায় নিলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ম্যাচের শেষ মুহূর্তের চরম নাটকীয়তায় নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে গেছে সেলেসাওরা। যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সেই রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের আঁচ আর বিষাদ ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশেও।

রাতভর ঝিরঝির বৃষ্টি, আর সেই ভেজা আবহাওয়া ছাপিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি আর মুহসিন হল মাঠে কাঁপিয়ে তুলছিল ফুটবল উন্মাদনা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মাঠের সেই স্নায়ুচাপের আঁচ যেন এসে লাগে হাজার মাইল দূরের এই সবুজ ক্যাম্পাসেও।

খেলা শুরুর আগেই মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পয়েন্টে জড়ো হতে থাকেন ফুটবল প্রেমীরা। টিএসসির সড়ক দ্বীপ থেকে শুরু করে মুহসিন হলের মাঠ, সবখানেই ছিল বৃষ্টিতে ভিজে একচিলতে রিও ডি জেনিরোর আবহ।

টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচের ১৪ মিনিটে বক্সের ভেতর কুনিয়া ফাউলের শিকার হলে ভিএআর দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। তখন আনন্দের বড় এক উপলক্ষ আসে সেলেসাও শিবিরে।

কিন্তু ব্রুনো গিমারাইসের দুর্বল শট নরওয়ের গোলরক্ষক নিল্যান্ড দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন। এই পেনাল্টি মিসে চরম হতাশ হয়ে পড়েন খেলা দেখতে আসা হাজারো সমর্থক।

বিরতির পর কুনিয়ার বদলে এনদ্রিক আর ৬৭ মিনিটে মাঠে নামেন নেইমার। কিন্তু ব্রাজিলের একের পর এক গোল মিসের মাশুল দিতে হয় একটু পরেই। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে হালেন্ডের চমৎকার হেডে প্রথম গোল পায় নরওয়ে। এরপর ৯০ মিনিটে বক্সের বাইর থেকে নেওয়া হালেন্ডের নিচু শটে আবারও গোল হজম করে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে সেলেসাওরা। নিউ জার্সি থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েল টিএসসি বা মুহসিন হল সবখানেই তখন ব্রাজিল ভক্তদের মাঝে হাহাকার নেমে আসে।

ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে কাসেমিরো প্রতিপক্ষের ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি থেকে নেইমার এক গোল শোধ করেন। তবে ২-১ ব্যবধানের এই গোল কেবল সান্ত্বনাই বয়ে এনেছে। জায়ান্ট স্ক্রিনের সামনে ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে ব্রাজিলের এত দ্রুত বিদায় দেখে কেঁদে ফেলেন সমর্থকেরা।

মাঠের লড়াইয়ে ঐতিহাসিক জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে নরওয়ে। কিন্তু ব্রাজিলের পরাজয়ের গ্লানি আর আবেগের সুনামি বয়ে গেছে সমর্থকদের মনে। ফুটবল যে সীমানা পেরিয়ে এই বাংলার তরুণদের কতটা আপন করে নিতে পারে—মধ্যরাতের এই বিষাদময় উন্মাদনা যেন তারই সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

ইএ