গতকাল (মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর) উক্ত অনুষ্ঠানে পুডং গংলি হাসপাতালের ইউরোলজি ও এন্ডোইউরোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ঝং ওয়াং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। তিনি এসআইইউ ফেলো হিসেবে অধ্যাপক রফিকূল ইসলামের পেশাগত দক্ষতা, চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতি নিষ্ঠা এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন নিয়ে তার চিন্তাভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের ইউরোলজি, এন্ডোইউরোলজি ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নে তার উদ্যোগের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম বাংলাদেশের ইউরোলজি খাতের সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ইউরোলজি ও এন্ডোইউরোলজির মতো বিশেষায়িত চিকিৎসাক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আধুনিক অস্ত্রোপচার পদ্ধতি, উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবহার, চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার সম্প্রসারণ দেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে রোবোটিক সার্জারির যাত্রা শুরু হওয়া চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আধুনিক এই চিকিৎসাপ্রযুক্তির অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে বর্তমান সরকারও গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে রোবোটিক সার্জারিকে টেকসই ও কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে শুধু অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন যথেষ্ট নয়। এর জন্য দক্ষ সার্জন ও প্রশিক্ষিত অপারেশন থিয়েটার টিম তৈরি, নিয়মিত হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণ, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।’
অধ্যাপক রফিকূল ইসলাম বলেন, উপযুক্ত রোগী নির্বাচন ও দক্ষতার সঙ্গে প্রয়োগ করা হলে রোবোটিক সার্জারি জটিল অস্ত্রোপচারে অধিক সূক্ষ্মতা ও নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি করতে পারে। ইউরোলজির বিভিন্ন জটিল অস্ত্রোপচারে এ প্রযুক্তির সম্ভাবনা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে রোবোটিক সার্জারির পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি এন্ডোইউরোলজি ও অন্যান্য বিশেষায়িত চিকিৎসাক্ষেত্রেও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
চীনের চিকিৎসাব্যবস্থার আধুনিকায়ন, রোবোটিক সার্জারিতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং চিকিৎসকদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে চীনের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ লক্ষ্যে দুই দেশের হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।’
বাংলাদেশি চিকিৎসকদের জন্য রোবোটিক সার্জারিতে উচ্চতর ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে জ্ঞান বিনিময় এবং কারিগরি সহযোগিতা সম্প্রসারণে চীনের সহযোগিতা কামনা করেন অধ্যাপক রফিকূল ইসলাম। তিনি নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, ফেলোশিপ, পর্যবেক্ষণমূলক প্রশিক্ষণ, যৌথ কর্মশালা এবং চীনা বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি রোবোটিক সার্জারির প্রযুক্তিগত পরিচালনা, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে টেলিসার্জারির সম্ভাবনাও তুলে ধরেন অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, উন্নত যোগাযোগপ্রযুক্তি ও দূরনিয়ন্ত্রিত অস্ত্রোপচারব্যবস্থা ভবিষ্যতের চিকিৎসাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ ধরনের প্রযুক্তি বাস্তবায়নে নির্ভরযোগ্য উচ্চগতির যোগাযোগব্যবস্থা, রোগীর নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, আইনগত কাঠামো এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে চীনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন শুধু উন্নত যন্ত্রপাতি আমদানির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। প্রযুক্তি ব্যবহারে দেশীয় দক্ষ জনবল তৈরি, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলামের হাতে সম্মাননাসূচক স্মারক তুলে দেন পুডং গংলি হাসপাতালের ইউরোলজি ও এন্ডোইউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ঝং ওয়াং।
উল্লেখ্য, গত ২৫ অক্টোবর এসআইইউ ফেলো হিসেবে পুডং গংলি হাসপাতালের আমন্ত্রণে রোবোটিক সার্জারির ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে চীন যান অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম।


 and Yashar chief Gadi Eisenkot wave to supporters-320x167.webp)


