গুরুতর আহত ওই চিত্র সাংবাদিক রকি হোসেনকে (২৬) শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহত অন্যদের নাম জানা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের চেরাগআলী মোড় এলাকায় এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাখাওয়াত হোসেন সেলিম।
বেলা দেড়টার দিকে মতবিনিময় সভা শেষ হলে কাপাসিয়া থেকে কয়েকটি মোটর সাইকেলযোগে গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ রিয়াজুল হান্নানের নাম ধরে স্লোগান দিতে দিতে বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তারা চেয়ার, টেবিল, মাইক, সাউন্ড বক্স এবং প্যান্ডেল গুঁড়িয়ে দেয়। একপর্যায়ে তারা একটি কক্ষে বসে থাকা সাংবাদিকদের ওপরে চড়াও হয় বলে জানান স্থানীয়রা।
এ সময় যমুনা টিভির চিত্র সাংবাদিক ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে হামলাকারীরা তাকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে তার সঙ্গে থাকা ক্যামেরা, আইডি কার্ড, মাইক্রোফোন, লাইভ ডিভাইস ও ল্যাপটপ লুট করে নিয়ে যায়। পরে সেখানে থাকা অপর সাংবাদিকরা তাকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ ঘটনার পর গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাখাওয়াত হোসেন সেলিম বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিএনপির একটি মতবিনিময় সভা করছিলাম। সভা শেষ হয়ে যাওয়ার আধাঘণ্টা পর কাপাসিয়া থেকে ২০ থেকে ২৫টি মোটরসাইকেল যোগে একদল নেতাকর্মী ওই সমাবেশ স্থলে এসে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। তারা প্যান্ডেল, মাইক ও আসবাবপত্র ব্যাপক ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে তারা সাংবাদিকদের উপর চড়াও হয়ে যমুনা টিভির চিত্র সাংবাদিককে বেধড়ক মারধর করে আহত করে।
তিনি এ ঘটনা নিয়ে দোষীদের শাস্তি ও বিচার দাবি জানান।
হামলার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ রিয়াজুল হান্নানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তবে শাহ রিয়াজুল হান্নান হামলার ঘটনায় অভিযোগের বিষয়টি মিথ্যা দাবি করে বলেন, ‘হামলাকারীরা যার অনুসারীই হোক তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’