জমি অধিগ্রহণ জটিলতা: থমকে আছে শেরপুর–ময়মনসিংহ বাইপাস প্রকল্প

জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সড়ক নির্মাণ কাজ
এখন জনপদে
0

শেরপুর থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত ১ হাজার ৮৪২ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি হচ্ছে বাইপাস সড়ক। তবে জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে আছে এ সড়কের কাজ। ফলে বাড়ছে সময় ও ব্যয়।

২০২২ সালের মে মাসে কাজ শুরু হয়ে ১০ মিটার প্রস্থ আর ৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়কের কাজ ২০২৫ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা। ভূমি অধিগ্রহণে ৬৮ কোটি টাকাসহ প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা।

২৪ কিলোমিটার সড়কের শেরপুর অংশে ৩৩০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, শেরপুর অংশে ১৮ কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়েছে। অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে আছে বাকি ৬ কিলোমিটার।

এর নির্মাণ শেষ হলে কৃষি অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে। ভারি ও মাঝারি শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করে জেলাবাসী। সড়কটি কাজ সম্পন্ন হলে ময়মনসিংহ থেকে শেরপুরের সঙ্গে যোগাযোগ অনেক সহজ হতো বলে জানান স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন:

জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় কাজ আটকে থাকায় প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে। পাশাপাশি শ্রমিক এবং যন্ত্রপাতির খরচও বাড়ছে বলে জানান এই প্রকল্প কর্মকর্তা।

ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড প্রকল্প ব্যবস্থাপক গাজী কামাল পাশা বলেন, ‘৫ কিলোমিটার ৮০০ মিটার এখন পর্যন্ত দু’বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও আমরা বুঝে পাইনি। তাই আমরা লোকজন নিয়ে বসে আছি। আর আমাদের কোনো কাজ নাই।’

গুরুত্ব বিবেচনায় জমি অধিগ্রহণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা উচিত বলে মনে করেন সড়ক ও জনপদ বিভাগের এ কর্মকর্তা।

শেরপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের যদি দ্রুততার সঙ্গে জমি না পাই, তাহলে এ কাজ সঠিক সময়ে শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।’

জেলা পরিষদের স্থাপনা ভাঙতে চিঠি দেয়া হয়েছে। আশা করা যায়, অধিগ্রহণ ও যাবতীয় সমস্যা কাটিয়ে জমি দ্রুত সড়ক ও জনপদ বিভাগকে বুঝিয়ে দেয়া হবে।

শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফতার মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘অধিগ্রহণের বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই একটু লম্বা হয়। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত কাজগুলো শেষ করার জন্য। এর বাহিরেও কিছু জায়গা আছে অধিগ্রহণের, তাও আমরা দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করছি।’

সড়কটির কাজ শেষ হলে বদলাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা; কমবে যানজট, সময় ও খরচ; বাড়বে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। জমি অধিগ্রহণ জটিলতা কবে কাটবে— এ প্রশ্ন স্থানীয়দের।

জেআর