কুমিল্লায় দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহতের ঘটনায় তিন তদন্ত কমিটি গঠন

কুমিল্লায় ট্রেন দুর্ঘটনা
দেশে এখন
এখন জনপদে
0

রেলক্রসিংয়ে বাসকে ধাক্কা, এরপর রেললাইনের ওপর দিয়ে বাসটিকে এক কিলোমিটার টেনে নিয়ে গেল ট্রেন। রোববার সকালে কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ভয়বাহ এ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১২ জন। আহত অন্তত ১৪ জন, যাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। ঈদ আনন্দের পরিবর্তে এখন বিলাপ করছেন স্বজনরা। এ ঘটনায় মোট তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ঈদ আনন্দের মধ্যেই বিভীষিকা নেমে এলো কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে। গতকাল (শনিবার, ২১ মার্চ) দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ওয়ান-আপ ট্রেন ধাক্কা দেয় চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি বাসে।

সংঘর্ষের তীব্রতা ছিল এতটাই ভয়াবহ যে, বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে টেনে নিয়ে যায় ট্রেনটি। আর্তনাদ আর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ট্রেনজুড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা উদ্ধারকাজ শুরু করে। হতাহতদের উদ্ধার করে নেয়া হয় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

ট্রেনের যাত্রী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, গেটম্যানের অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা। তাদের দাবি, ক্রসিংয়ে যথাযথ সতর্ক সংকেত ছিল না।

আরও পড়ুন:

প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘প্রথম দেখছি একজন মহিলা দরজার কোণায় পড়ে আছে। তখন আমাদের সঙ্গে আরও দুইজন ভাই ছিল, আমরা যে কয়জনকে বের করা যায় বের করছি উপরের গ্লাস ভেঙে।’

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ক্রসিংয়ে কার্যকর সিগন্যাল না থাকায় বাসটি রেললাইনে উঠে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. ইদ্রিস বলেন, ‘রাস্তার যে সিগন্যালম্যান থাকে উনি আসলেও ব্লক করেছিল কি না আমি জানি না। যদি ব্লক করতো হয়তো এত বড় দুর্ঘটনা হতো না।’

এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসনের একটি এবং রেলওয়ের পক্ষ থেকে দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রেজা হাসান বলেন, ‘রেল মন্ত্রণালয় থেকে দুইটি আর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমি নিজে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। যেন এটার পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়, কী কারণে এ ঘটনাটি ঘটেছে।’

ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এটি কি শুধুই দুর্ঘটনা, নাকি অব্যবস্থাপনা আর অবহেলার ফল? তদন্তের পর সেই উত্তর মিললেও, স্বজন হারানো পরিবারগুলোর কাছে এই ঈদ হয়ে থাকবে রক্তাক্ত ও শোকাবহ।

এসএস