নোয়াখালী জেলা কারাগার: অর্ধশতকের অবহেলায় ঝুঁকির মুখে বন্দি ও কারাসদস্যরা

নোয়াখালী
এখন জনপদে
0

দীর্ঘদিনের অবহেলায় সংস্কার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় নোয়াখালী জেলা কারাগারে চরম ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন বন্দি ও কারাসদস্যরা। গত অর্ধশত বছরেও কোনো সংস্কার না করায় সবগুলো ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। জরাজীর্ণ এসব ভবনে বন্দি ও কারা সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

১৯৬৭ সালে নোয়াখালীতে নির্মিত হয় জেলা কারাগার। কারাগারের ভেতরে বন্দি ও কারা সদস্যদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল ১০টি ভবন।

দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সবগুলো ভবনের দেয়ালে ফাটল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। ভবনগুলো যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্দিদের থাকার একাধিক ভবন দেবে গেছে।

জেল কর্তৃপক্ষরা জানান, ওয়ালগুলো সামান্য বৃষ্টিতে দেবে যায়। ড্রেনেজ সিস্টেম অকেজো হয়ে পড়েছে। সেখানকার কোয়াটারগুলো ভেঙে গেছে।

নিচু ভূমি ও দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনেজ ব্যবস্থা বিকল হয়ে পড়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই কারাগারের ভেতরে ঢুকে পড়ে পানি। এতে বন্দি ও কারারক্ষীদের ভোগান্তি বেড়ে যায় বহুগুণ। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ভবনগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বজরা নামের ভবনটি মাটির নিচে দেবে যায় কয়েক ফুট। আতঙ্কে আছে কারাগারের ভিতর থাকা বন্দি-করারক্ষীরা।

আরও পড়ুন:

কর্তৃপক্ষরা জানান, এখানে বন্দি-করারক্ষী সবাই আছে। তারা সবসময় আতঙ্কের মধ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, মারাত্মক ঝুঁকি বিবেচনায় এক বছরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয়েছে ৪২টি চিঠি।

নোয়াখালী জেল সুপার আব্দুল বারেক বলেন, ‘আমি প্রায় ৪০ থেকে ৪২টি চিঠি দিয়েছি। এ চিঠি দেয়ার মাধ্যমে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসেছেন। তারা কাজ শুরু করেছেন।’

কারা অভ্যন্তরের সব স্থাপনাকে ২০১৭ সালে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে গণপূর্ত বিভাগ। নতুন করে কারাগার নির্মাণের জন্য ৪০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে বলে জানায় গণপূর্ত বিভাগ।

নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগ নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘এটি পুনর্নির্মাণ করতে হবে। এটি ড্রয়িং স্টেজে আছে এখনো। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলতে পারবে এটি কবে নাগাদ পাশ হবে।’

৫০০ কয়েদি-হাজতির ধারণক্ষমতার জেলা কারাগারটিতে নিয়মিত বন্দি থাকে প্রায় দেড় হাজার। এছাড়াও কারা কর্মকর্তা- কর্মচারী আছেন ২০২ জন।

এফএস