পাবনায় বেড়েছে হামের প্রাদুর্ভাব; আক্রান্তদের অধিকাংশই শিশু

হাসপাতালে হাম রোগী
স্বাস্থ্য
এখন জনপদে
0

পাবনায় হঠাৎ করেই বেড়েছে হামের প্রাদুর্ভাব। আক্রান্তদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি, বয়স্কও আছেন কয়েকজন। তবে ওয়ার্ডে বেড সংকটে সাধারণ রোগীদের সঙ্গেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে হামে আক্রান্তদের।

পাবনায় দিন দিন বেড়েই চলেছে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। ২৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে ৩৮ বেডের শিশু ওয়ার্ড হলেও ভর্তি দুইশোর বেশি রোগী, তাই সাধারণ রোগীদের সঙ্গেই চিকিৎসা নিচ্ছে হাম আক্রান্ত রোগীরাও। পাবনা জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের পাশেই রয়েছে হাম ওয়ার্ড।

রোগীর স্বজনদের একজন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমারা ডাক্তার ও নার্সদের ডাকলেও তারা এখানে আসতে চায় না। তারা নাকি ভয় পায়। এমনকি ঝাড়ুদাররা ও আসতে চায় না। সাতদিন আগে এখানে ঝাড়ু দেয়া হয়েছে।’

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. রফিকুল হাসান বলেন, ‘যখন রোগীরা আইসোলেশনে ভর্তি হয় তখন তো আমরা সাধারণ রোগীদের ফেরত দিতে পারি না। ফলে তারা স্বাধারণ রোগীদের পাশেই থাকে।’

আরও পড়ুন:

কি কারণে হঠাৎ করে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে সেটি বের করার চেষ্টা চলছে বলে জানান শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ।

পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডা. পরিমল কুমার পাল বলেন, ‘মায়ের ভ্যাকসিনেশন থাকলে বাচ্চারা ৬ মাস পর্যন্ত প্রতিরোধ পায়। আর আমাদের ভ্যাকসিনেশন দেয়া হয় ৯ মাস থেকে। এই ৬ থেকে ৯ মাসের মধ্যে কেন বাচ্চারা হামে আক্রান্ত হচ্ছে এ জন্য আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। মায়েরা টিকা নিচ্ছে কিনা। এগুলো আমরা দেখছি।’

আর টিকাদানে ঘাটতি বা অন্য কোনো কারণে এ সমস্যা হচ্ছে কি না সেটি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখছে বলে জানান পাবনার সিভিল সার্জন।

পাবনা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘টিকা নেয়ার পর কেন হাম হচ্ছে তার জন্য তদন্ত হওয়া দরকার। আর আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি তারা ব্যবস্থা নেবে বলে আমাদেরকে জানিয়েছে।’

হাম একটি ছোঁয়াচে রোগ, হাম আক্রান্ত রোগীদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

জেআর