সেতুর নিচ থেকে কাটা হয়েছে সংযোগ সড়কের মাটি, ঝুঁকিতে অবকাঠামো

মানিকগঞ্জ
সেতুর নিচ থেকে সংযোগ সড়কের মাটি কাটা হয়েছে
এখন জনপদে
0

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ভূমদক্ষিণ বাজার সংলগ্ন খালের ওপর নবনির্মিত একটি সেতুর নিচ থেকে মাটি কেটে সংযোগ সড়ক ভরাট এবং নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। সেতুর পিলারের কাছ থেকেই মাটি উত্তোলনের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

সরেজমিন দেখা গেছে, ঠিকাদার এস্কাভেটর দিয়ে সেতুর নিচ থেকে মাটি কেটে পাশের সংযোগ সড়কে মাটি ফেলেছেন। এতে সাময়িকভাবে সড়ক উঁচু করা হলেও সেতুর ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় বিষয়টি নিয়ে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা।

স্থানীয় বাসিন্দা মহিদুর রহমান বলেন, ‘প্রায় দুই বছর আগে সেতুর কাজ শুরু হয়। সেতুর কাজ শেষ। এখন সংযোগ সড়ক হলেই পুরোপুরি ব্যবহার উপযোগী হবে। এরই মধ্যে পিলারের একেবারে কাছ থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে আমরা খুব আতঙ্কে আছি। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

একই গ্রামের আরেক বাসিন্দা রফিক বলেন, ‘সেতুর নিচের মাটি সরিয়ে ফেললে পিলারের শক্তি কমে যাবে। বর্ষায় পানি বাড়লে স্রোতের চাপ সহ্য করতে না পেরে সেতু ধসে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।’

আরও পড়ুন:

স্থানীয় ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘এই সেতুর ওপর দিয়ে বাজারের সব মানুষ চলাচল করবে। কিন্তু কাজের মান দেখে মনে হচ্ছে দ্রুতই সমস্যা দেখা দেবে। নিম্নমানের খোয়া দিয়ে রাস্তা বানানো হচ্ছে, যা টিকবে না।’

প্রকৌশল বিশেষজ্ঞদের মতে, সেতুর পিলারের আশপাশের মাটি সরিয়ে ফেললে ভিত্তি দুর্বল হয়ে যায়। পিলার ধসে পড়ার সম্ভাবনাও থাকে। আর এস্কাভেটরের মতো ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার সেতুর ওপর অতিরিক্ত কম্পন ও চাপ সৃষ্টি করে, যা নতুন নির্মিত কাঠামোর জন্য বেশ ক্ষতিকর।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঠিকাদার বাবুল হোসেন বলেন, ‘মাটি আমি আগেই ফেলেছিলাম, এখন আবার কেটে নিচ্ছি। আর সংযোগ সড়কে আমি ভালো খোয়া (ইটের টুকরা) ব্যবহার করছি। আর খোয়ার বিষয়ে উপজেলা থেকে যে সিদ্ধান্ত দেয়া হবে, সে অনুযায়ী কাজ করবো।’

উপজেলা প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বলেন, ‘সেতুর নিচ থেকে মাটি কাটার কোনো নিয়ম বা অনুমতি নেই। এ বিষয়ে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

অবিলম্বে সেতুর নিচ থেকে মাটি কাটার কাজ বন্ধ এবং নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার বন্ধ করে টেকসইভাবে সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এসএস