বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল: হাওরের কৃষিতে অশনিসংকেত, খাদ্য সংকটের আশঙ্কা

বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে ধান
এখন জনপদে
0

টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে যখন মাথায় হাত হাওরের কৃষকদের, তখন দুশ্চিন্তা আরো বাড়িয়েছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস। বলছে, ৪ মে পর্যন্ত এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অনেক জেলায় রয়েছে বন্যা পরিস্থিতি তৈরির শঙ্কা। কৃষি অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অবস্থার দ্রুত উন্নতি না হলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে খাদ্য নিরাপত্তায়। আর জমিচাষে আগ্রহ হারাবে হাওরের কৃষকরা। তাই, দীর্ঘমেয়াদে সংকট সমাধানে হাওরভিত্তিক পরিকল্পনা হাতে নেয়ার পরামর্শ তাদের।

কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢলে জমির ধান তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হাওরের কৃষক।

চোখের সামনে পানির নিচে পাকা ধান তলিয়ে যাওয়া দেখা ছাড়া এই মুহুর্তে আর কিছুই করার নাই তাদের। আগাম বন্যা, বৈরী আবহাওয়া, বজ্রপাতের মাঝে তীব্র শ্রমিক সংকট থাকায় অবশিষ্ট যা ধান আছে তাও ঘরে তুলতে পারবে কিনা তা নিয়েও হাওরের কৃষকদের সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে।

এর মধ্যে আবহাওয়া অধিদপ্তরও কোন ভালো সংবাদ দিতে পারেনি কৃষকদের জন্য। জানিয়েছে আগামী ৪ মে পর্যন্ত এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে আর এই বৃষ্টিপাত চলমান থাকলে মৌলভীবাজার, নেত্রকোনার মতো সুনামগঞ্জ এবং হবিগঞ্জেও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হবে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া বলেন, ‘আমাদের ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস বলছে যে এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে এবং এর ফলে সামনে হবিগঞ্জ জেলায় এবং পরবর্তীতে সিলেট এবং সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলেও বন্যার ঝুঁকির প্রবণতা রয়েছে এবং সে অনুযায়ী আমরা এলার্ট ইস্যু করেছি।’

মৌসুমের আগেই আগাম এই বন্যা পরিস্থিতি কেন? দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক ভূমি ব্যবস্থাপনা না থাকা, হাওরের পানি নেমে যাওয়ার জায়গা ভরাট করে ঘরবাড়ি এবং রাস্তা তৈরি করায় মৌসুমের আগেই হাওর অঞ্চলগুলো আগাম বন্যার কবলে পড়ছে।

আরও পড়ুন:

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ গওহর নঈম ওয়ারা বলেন, ‘কিছুদিন আগে বলা হয়েছিল যে আমরা আর কোনো রাস্তা করবো না হাওরের মধ্য দিয়ে এবং যে রাস্তা হয়েছে সেগুলো আমরা ব্যবস্থাপনা করবো। সেটা হয় নি। ভুল রাস্তাঘাট করে আপনার কালভার্ট না রেখে বা ব্রিজ না রেখে ওপেনিং না রেখে যেভাবে আমরা করছি তাতে এরকম অবস্থা আরও হবে, ঘন ঘন হবে।’

এমন পরিস্থিতিতে কৃষি অর্থনীতি চরম বিপর্যয়ে পড়বে বলে মনে করছেন কৃষি অর্থনীতিবিদরা। খাদ্য নিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব থেকে শুরু করে হাওরের কৃষকরা জমিচাষে আগ্রহ হারাবে বলে মনে করছেন তারা।

কৃষি অর্থনীতিবিদ রিপন কুমার মন্ডল বলেন, ‘প্রোডাকশন হ্যাম্পার্ড হয় আমার ১০ হাজার হেক্টর জমিতে, তাহলে অবশ্যই সেটা আমার গিয়ে টোটাল যে ডিমান্ড সে ডিমান্ডের মধ্যে একটা সাপ্লাইয়ের সাথে ক্রাইসিস তৈরি করবে। দ্রুততম সময়ে একটু ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন নাহলে মার্কেট আবার শেকি হয়ে যেতে পারে।’

আগাম বন্যা পরিস্থিতি থেকে হাওরাঞ্চলের কৃষি রক্ষায় হাওরে ধান উৎপাদন বাড়াতে সরকারকে শুধুমাত্র হাওরভিত্তিক একটি পরিকল্পনা হাতে নেয়ার পরামর্শ কৃষি অর্থনীতিবিদদের।

কৃষি অর্থনীতিবিদ কাশফিয়া আহমেদ বলেন, ‘কৃষি মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব নিতে হবে যে আগাম বোরো চারা তাদেরকে রোপণ করতে বলা, সেভাবে তাদেরকে ট্রেনিং দেওয়া যাতে করে এই বন্যা আসার আগেই এখন যেমন ৮০ পার্সেন্ট বা ৭০ পার্সেন্ট ধান কিন্তু ওদের পেকে গেছে সব জায়গাতে হাওরে। তো এটা যেন পুরোটাই পেকে যায়।’

এছাড়া বর্তমান অবস্থায় কৃষকদের থেকে সরকারকে আগেভাগেই ন্যায্যমূল্যে ধান কেনার কথা বলেন তারা।

ইএ