দালালচক্রের ফাঁদে প্রবাসীরা, এক বছরে কুমিল্লায় ফিরেছে ৪২৮ মরদেহ

বিমান বন্দরে বিদেশগামীদের ভিড়
প্রবাস
এখন জনপদে
0

গত একবছরে ৪২৮ জন প্রবাসী কর্মীর লাশ গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম বিভাগে জনশক্তি রপ্তানিতে শীর্ষ জেলা কুমিল্লা। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) নিবন্ধিত না হলে মরদেহ দেশে ফেরাতে সৃষ্টি হয় নানা জটিলতা। দালালদের খপ্পরে পড়ে প্রবাসগামীরাই বেশি বিপাকে পড়ছেন।

বিএমইটির নিবন্ধিত কুমিল্লার প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ প্রবাসী শ্রমবাজারে রয়েছে। স্টুডেন্ট, ট্যুরিস্ট, উচ্চতর গবেষণাসহ নানা পেশায় অনিবন্ধিত প্রবাসীর সংখ্যা তার চেয়েও বেশি। প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ শ্রমজীবী মানুষ কুমিল্লা থেকে প্রবাসে পাড়ি জমান। গত ৫ বছরে প্রবাস গমনের শীর্ষে রয়েছে কুমিল্লা।

কুমিল্লা থেকে গত ৫ বছরে জনশক্তি রপ্তানি হয়েছে- ২০২৫ সালে ৭৬ হাজার ৪৫৮ জন, ২০২৪ সালে ৯২ হাজার ৯১১ জন, ২০২৩ সালে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫২০ জন, ২০২২ সালে ১ লাখ ৫ হাজার ৯৯৭ জন, ২০২১ সালে ৬৮ হাজার ৫৮৬ জন।

স্বপ্ন বুকে নিয়ে কেউ কেউ বিদেশ পাড়ি জমান সব বিক্রি করে। ভিসার চাকচিক্যতা থাকলেও অনেকের জন্যই প্রবাসের সুখ অধরা। ইউরোপে পাড়ি জমাতে গিয়ে দালালদের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন অনেকেই।

মিথ্যা কথা বলে নিয়ে যায়। তারপর ঠিকমতো কাজ তো দেয়ই না, তার ওপর বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হয় বলে জানান প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা।

আরও পড়ুন

অন্ধ বিশ্বাসে দালালদের কাছে টাকা দিয়ে প্রতারিত হওয়ার ঘটনা বাড়ছে। বিএমইটি সতর্ক করছে—আকামা নবায়ন না করে অনেকেই অবৈধ হয়ে পড়ছেন।

কুমিল্লা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক মো. আতিকুর রহমান বলেন, ‘অন্ধবিশ্বাসে দেশেরে বাহিরে অনেকে বিভিন্ন এজেন্সিকে টাকা দিচ্ছে কিন্তু তারা প্রবাসীদেরকে আকামা করে দিচ্ছে না। যার ফলে প্রবাসীরা কাজ ঠিকি পাচ্ছে কিন্তু আকামা বিহীন হয়ে পরছে।’

সৌদিআরবে মারা যাওয়া মো. ইয়াসিনের স্ত্রী সাকিনা আক্তার দুই সন্তানকে নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারে এসেছেন সরকারের অনুদান প্রাপ্তির আশায়। যারা প্রবাসে প্রিয়জন হারিয়েছেন, এমন অসংখ্য মানুষের ভিড় জমে প্রতিদিন এ সেন্টারে।

কুমিল্লায় ওয়েজ আর্নার্স বোর্ডের অনুদানের পরিমাণ বলছে, ২০২৫ সালে এসএসসি ও এইচএসসি মেধাবৃত্তি : ৬২ জন, ৩ মাসে ১০৯ মৃতকর্মীর অনুদান গ্রহণ: ৩ কোটি ২৭ লাখ, ৩ মাসে ২৫ মৃতকর্মীর ক্ষতিপূরণ আদায় : ৫ কোটি ৭২ লাখ ৩২ হাজার, ৩ মাসে প্রবাসীকর্মীর প্রতিবন্ধী সন্তানদের ভাতা প্রদান: ২২৯ জনক আর ৩ মাসে আহত ও অসুস্থ ৪৯ কর্মীর চিকিৎসা সহায়তা: ৯৮ লাখ টাকা দেয়া হয়।

২০২৫ সালে অসুস্থতা কিংবা দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া কুমিল্লার ৪২৮ জন প্রবাসী কর্মীর মরদেহ দেশে আসে। উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে নিঃস্ব অনেক পরিবার। প্রবাসে মৃত কর্মীর পরিবারকে ৩ লক্ষ টাকা অনুদান দেয় সরকারের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড।

কুমিল্লা প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. মাইন উদ্দিন বলেন, ‘যে সব প্রবাসীদের কাছে ওয়েজ বোর্ডের সদস্য পদ পেপার থাকে, তাদেরকে আমরা তিন লাখ টাকা দিয়ে থাকি। এমনকি তাদেরকে আমরা চিঠি দিয়ে বলা হয় এই-এই পেপারগুলো জমা দেয়ার জন্য।’

কনস্যুলার সেবা জোরদার, জরুরি তহবিল গঠন এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের কার্যক্রম আরও সহজলভ্য করা ও বিদেশে কার্যকরী সাপোর্ট সিস্টেম গড়ে তোলা জরুরি বলে মনে করেন প্রবাসীরা।

জেআর