এর আগে, সোমবার রাত ১২টার দিকে মরদেহবাহী গাড়িতে করে নিজ নিজ গ্রামে মরদেহ আনা হয়। পাকুড়িয়া গ্রামে দুই ভাই মাইনুল ইসলাম ও গিয়াস উদ্দিনের রাতেই দাফন সম্পন্ন হয়। বাকিদের নিজ নিজ গ্রামে জানজা শেষে দাফন করা হয়। জানাজায় আশপাশের গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত জানাজায় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড.আ.ন.ম বজলুর রশিদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাজাহান, নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ডা.ইকরামুল বারি টিপু, নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আখতার জাহান সাথী, মান্দা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
স্বজনদের শেষ বিদায়ে কান্নায় ভারী হয়ে এসে আকাশ-বাতাস। এলাকায় বইছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারি ও বুকফাটা কান্নায় পুরো এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা নিহতদের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এক নজর দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে এসেছেন অনেকে।
পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নোয়াখালি থেকে একটি রডবাহি ট্রাকে করে নওগাঁর ২৬ যুবক বাড়ি ফিরছিলেন। পথে টাঙ্গাইলের কালিহাতি এলাকায় ট্রাক নিয়ন্ত্রন হারিয়ে চাপা পড়ে মান্দার রাজেন্দ্রবাটি ও পাকুড়িয়া এবং জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার মালঞ্চি ও রামগাঁও সহ ১১ জন মারা যান। এরমধ্যে রাজেন্দ্রবাটি গ্রামেরই ৬ জন যুবক।
নিহতরা হলেন- রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে আব্দুল বারিক(২২), তার চাচা আব্দুর রহিমের ছেলে বাদশা (৪০), সাকিম হোসেনের ছেলে সাগর হোসেন (২২), আকব্বর আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন (২০), সুলতান মাহমুদের ছেলে তারেক রহমান (১৮), শহিদুল ইসলামের ছেলে রবিউল আলম(২৮), পাকুড়িয়া গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে মাইনুল ইসলাম (২৮) ও তার ভাই গিয়াস উদ্দিন (২২) এবং হোসেনপুর গ্রামের জাফের আলীর ছেলে মাইনুল ইসলাম (৩৫)।
আরও পড়ুন:
নিয়ামতপুর উপজেলার রামগাও গ্রামের রহমতুল্লাহ এর ছেলে সুজন রেজা এবং মালঞ্চী গ্রামের সাইদুলের ছেলে সারিকুল (২৫)।
রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে মরদেহগুলো দাফনের জন্য আশেপাশের গ্রাম থেকে আনা হয় ৫টি খাঁটিয়া। শরিয়া নিয়ম অনুযায়ী সারি সারি করে রাখা খাটিয়াতে মরদেহগুলো এক নজর দেখতে ভিড় করছেন আশেপাশের মানুষ।
রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম বজলুর রশিদ বলেন, ‘নিহত পরিবারগুলোকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে প্রতি পরিবারের মাঝে ২৫ হাজার টাকা এবং শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। এ ঘটনায় আমরা সকলেই শোকাহত। এক গ্রাম থেকে ৬ জন মানুষের এক সঙ্গে চলে যাওয়া আমাদেরকে মর্মাহত করেছে। পরিবারগুলোকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।’
স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, নওগাঁর মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্রবাটি, পাকুড়িয়া ও হোসেনপুর দরিদ্রপ্রবন গ্রাম। এসব গ্রামের মানুষ জীবিকার তাগিদে নোয়াখালী ও ফেনি জেলার বিভিন্ন গ্রামে ফেরি কর হরেক মালের ব্যবসা করেন। এসব গ্রাম থেকে শতাধিক মানুষ ওই জেলায় গিয়ে কেউ অন্তত ১৫ দিন, ২০ দিন, ২৫ দিন বা ১ মাস ব্যবসা করতো। এরপর তারা ভালো একটা আয় করে গ্রামে আসতো। কিছুদিন গ্রামে থেকে আবার ব্যবসার জন্য যেত।
উল্লেখ্য, গত ২০-২৫ দিন আগে তারা নোয়াখালী যায়। পরিবারের সঙ্গে ঈদ উপভোগ করতে কিছু টাকা বাঁচাতে একটি ট্রাকযোগে ২৬ জন বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে সোমবার (২৫ মে) ভোরে টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে রডবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে উল্টে চাপা পড়ে বেশ কয়েকজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।





