আজ (সোমবার, ১ জুন) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ করে দেয়ার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মানববন্ধনে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমরা গত দুই বছরের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, একটার পর একটা মাজার ভাঙা হয়েছে, কবর থেকে তুলে নিয়ে মরদেহ পোড়ানো হয়েছে; আমরা দেখেছি দক্ষিণপন্থা বা ডানপন্থা উগ্রবাদের উত্থান। কিন্তু আমার দেশের মাটি তো এমন ছিলো না! এ দেশে সকাল বেলা যেমন কোরআন তিলাওয়াত শুনেছি, তেমনি বিকেল বেলা হারমোনিয়াম নিয়ে ছোট-ছোট বাচ্চারা গান প্র্যাকটিস করেছে— সেটাও আমরা দেখেছি। তাহলে এই বাংলাদেশকে কারা মৌলবাদের ভূমি বানাতে চায়?’
তিনি বলেন, ‘যেই রাষ্ট্র কোনো অপরাধ বন্ধ করতে পারেনি; যেই রাষ্ট্র ছোট-ছোট শিশুদের বলাৎকার আর ধর্ষণের হাত থেকে বাঁচাতে পারেনি, সেই রাষ্ট্র কী করে আজকে বাংলাদেশে যেখানে ধর্মের পাশাপাশি সবরকম সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চলেছে, সেটাকে বন্ধ করে বাংলাদেশকে ও পরের প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাওয়ার মদদ দিচ্ছে?’
আরও পড়ুন:
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস রহমান, জেলা ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি ফাহিম মুনতাসির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইফতিকার জাবেদ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দুর্জয় মাহমুদ প্রমুখ।
সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের শাহবাজপুর গ্রামে সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচিটি পালিত হয়। এতে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারাসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
এর আগে, গত ৩০ মে জেলা শহরে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের বাধায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর প্রদর্শনী স্থগিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি। এছাড়া ওইদিন রাতে কসবা উপজেলার তালতলা গ্রামে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন গিয়ে সিনেমাটির প্রদর্শনী বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে।





