আজ (রোববার, ২৮ জুন) সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান-২০২৬’-এ এসব মাদক ধ্বংস করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান।
বিজিবি জানায়, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে ৪৮ জন আসামিসহ ১২৬ কোটি ৬৬ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫৬ টাকা মূল্যের চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য রয়েছে।
ধ্বংস করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ৭৯১ বোতল বিভিন্ন ধরনের মদ, ৪ হাজার ৫২৪ বোতল ফেনসিডিল ও সমগোত্রীয় নেশাজাতীয় দ্রব্য, ৪৭ হাজার ২৭০ পিস ইয়াবা, ৬ লাখ ৭ হাজার ৭৬৯ পিস বিড়ি-সিগারেট, ৩৩ দশমিক ৪০০ কেজি গাঁজা, ৬৩ লাখ ১৩ হাজার ১২০ পিস অবৈধ ওষুধ, ৩৫ কেজি তামাকের গুঁড়া, ২ বোতল লিকুইড সীসা এবং মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত ১০০ কেজি বট পাতা।
এছাড়াও ধ্বংস করা হয়েছে অতি মূল্যবান মাদকদ্রব্যের মধ্যে থাকা এলএসডি ৭২ দশমিক ৫০ মিলিলিটার, ক্রিস্টাল মেথ আইস বা আইস মেথ ৮ দশমিক ৫৮৩ কেজি এবং আফিম তৈরিতে ব্যবহৃত ২০ বোতল কেমিক্যাল।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের (৩৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান, ওএসপি, পিএসসি স্বাগত বক্তব্য দেন।
আরও পড়ুন:
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘মাদকমুক্ত দেশ গঠনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সীমান্তে বিজিবির প্রতিটি সদস্য দিন-রাত দায়িত্ব পালন করে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’
তিনি বলেন, ‘মাদক একটি বহুমাত্রিক সামাজিক সমস্যা। এ সমস্যা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।’
মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
পরে প্রধান অতিথি নিজ হাতে মাদকদ্রব্য ধ্বংস কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের সদস্যদের দক্ষতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, র্যাব-৬ এর কোম্পানি কমান্ডারসহ বিজিবি সদস্যরা।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য ধ্বংসের মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধ আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।





