হরমুজ প্রণালিতে নিজস্ব রুট মানতে জাহাজগুলোকে ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি

হরমুজ প্রণালিতে চলাচল করা জাহাজ ও নৌকা
বিদেশে এখন
0

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নির্ধারিত রুট এড়িয়ে বিকল্প পথে জাহাজ চলাচলের যেকোনো চেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। আজ (রোববার, ২৮ জুন) ইরান ও মার্কিন বাহিনীর মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার পর দেশটির শীর্ষ কূটনীতিক এই সতর্কবার্তা দেন।এএফপির বরাত দিয়ে ইয়াহু নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

পাকিস্তান-মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধ বন্ধের একটি সমঝোতা হলেও পরিস্থিতি এখনো বেশ নাজুক। আজ (রোববার, ২৮ জুন) ভোরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ‘বাণিজ্যিক জাহাজে ক্রমাগত ইরানি আগ্রাসনের’ অভিযোগে ১০টি ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এর জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইরান। কুয়েত ও বাহরাইন উভয় দেশই এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের চলমান ব্যবস্থাপনার বাইরে নতুন বা পৃথক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা কেবল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করবে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করবে।’ বর্তমানে ইরান জাহাজগুলোকে তাদের উপকূল ঘেঁষে চলার নির্দেশ দিলেও অনেক জাহাজ ওমান উপকূল ব্যবহার করছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, তারা প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আগের চেয়ে আরও দৃঢ়ভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় যুদ্ধ শুরু করতে বাধ্য হয় তবে ‘ইরান নামের কোনো রাষ্ট্রের আর অস্তিত্ব থাকবে না!’ তিনি জানান, পানামার পতাকাবাহী ‘কিকু’ নামের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানি ড্রোন হামলার কারণেই মার্কিন বিমানগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত কেন্দ্রে আঘাত হেনেছে।

অন্যদিকে, লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যকার নতুন শান্তি প্রচেষ্টাও হুমকির মুখে পড়েছে। হিজবুল্লাহ নেতা নাঈম কাসেম ইসরাইলের সঙ্গে হওয়া নতুন নিরাপত্তা চুক্তি প্রত্যাখ্যান করার পর ইসরাইল লেবাননে ফের বিমান হামলা চালিয়েছে। হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হাসান ফজলুল্লাহ সতর্ক করে বলেছেন, এই চুক্তির ফলে লেবাননে অভ্যন্তরীণ সংঘাত তৈরি হতে পারে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারই এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান শর্ত।

এএম