ময়মনসিংহে গ্যাস সরবরাহ সংকটে ভোগান্তি বেড়েছে চালকদের

ফিলিং স্টেশনে সিএনজি অটোরিকশার লাইন
এখন জনপদে
0

ময়মনসিংহে গত ৩ দিন ধরে বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। আর সরবরাহ কমায় বন্ধ হয়ে পড়েছে বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন। মধ্যরাত থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গ্যাসের আশায় লাইনে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, প্রাইভেট কার, অ্যাম্বুলেন্স, বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন পরিবহনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলেও অনেক চালক গ্যাস ছাড়াই বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

ময়মনসিংহের ত্রিশালের মানিক মিয়া; গেলো বছর এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ৮ লাখ টাকায় কিনেছিলেন সিএনজি চালিত অটোরিকশা। যেহেতু চালাবেন নিজেই, সংসার-ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ মিটিয়ে প্রতি মাসে ৪২ হাজার টাকার কিস্তির বোঝাটা কাঁধ থেকে একটু একটু করে নামাবেন— এমনটাই আশা ছিলো তার মনে। তবে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় রোগজারে পড়েছে ভাটা।

গেলো ৩ দিনে তার অবস্থা আরও বেগতিক, সকাল-সন্ধ্যা অপেক্ষা করেও মিলছে না গ্যাস। এলপিজি তুললেও বিড়ম্বনা, কেননা ভাড়া একটু বেশি চাইতেই চালকের সঙ্গে যাত্রীদের বেধে যায় বাকবিতণ্ডা।

তাইতো আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, ‘বাড়িতে কিস্তির লোক আয়া বয়া থাহে, পাম্পে গ্যাস নাই, গাড়ি বন্ধ। গাড়ি বন্ধ থাকলে খামু কী আর কিস্তি কইত্তে দিমু? প্রতিদিন গ্যাসের লাইগা লাইনে দাড়াই থাহা আর কুলায় না। সরকার এর একটা ব্যবস্থা করুক তাড়াতাড়ি।’

আরও পড়ুন:

আজ (শনিবার, ২৫ জুলাই) ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত বেশ কয়েকটি পাম্পে অল্প পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হলেও ১০টার পর সব পাম্প একযোগে বন্ধ হয়ে পড়ে, দুর্ভোগ চরম আকারে পৌঁছে। এতে করে নিয়মিত যাত্রী পরিবহন করতে না পারায় যাত্রী দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি দৈনিক আয়-রোজগার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান চালকরা।

এদিকে ময়মনসিংহ তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু এলাকায় শিল্প, বাণিজ্যিক, সিএনজি ও আবাসিক গ্রাহকপ্রান্তে গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ বিরাজ করছে বলে জানায়। এতে দুঃখ প্রকাশ করে মূল ফটকে বিজ্ঞপ্তি ঝুলিয়ে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে জানা যায়, শিল্পাঞ্চল ভালুকায় গ্যাস সংকটে শিল্পকারখানায় ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। সিএনজির পাশাপাশি বাসা-বাড়িতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন পরিবহন চালকরা। তবে কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে কিছু বলতে পারেনি তিতাস কর্তৃপক্ষ।

এসএইচ