দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট; দুর্ভোগে চালকরা

গ্যাস সংকটে দুর্ভোগে সিএনজিচালকরা
দেশে এখন
0

দেশের বিভিন্ন জেলায় তীব্র হয়েছে গ্যাস সংকট। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজিচালিত যানবাহনের চালকরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না গ্যাস। কোথাও আবার দিনের বেশিরভাগ সময়ই বন্ধ থাকছে ফিলিং স্টেশন। অনেক এলাকায় আবাসিক গ্রাহকরাও গ্যাসের সংকটে ভুগছেন।

গত তিন দিন ধরে ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। মধ্যরাত থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাড়িয়ে থেকেও, অনেক চালক গ্যাস ছাড়াই বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত বেশ কয়েকটি পাম্পে অল্প পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হলেও ১০ টার পর সব পাম্প একযোগে বন্ধ হয়ে পড়লে দুর্ভোগ চরম আকারে পৌঁছে।

চালকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘৬ ঘণ্টা, সাড়ে ৬ ঘণ্টা যাবৎ এখানে দাঁড়ানো আছি। কিন্তু বলতেছে যে এখন আর দিবে না।’

আরও পড়ুন:

অন্য একজন বলেন, ‘গাড়ি বের করলেই মনে করেন যে ৬০০ টাকা আমদানি। এটা দিতেই হবে। কিস্তি আছে, আগে নিজে বাঁচতে পাইতাছি না, মহাজনেরে কি দিমু। এখন আমাগো এই গ্যাসের যে সমস্যাটা, এটার সমাধান না হইলে এখন তো মনে করেন যে আমাগো বিরাট সমস্যা হয়ে যাইবোগা।’

একই পরিস্থিতি নরসিংদীতে। তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে ফিলিং স্টেশনগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় জেলার কয়েকটি গ্যাস বিক্রি ব্যাহত হচ্ছে, কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে বিক্রিও বন্ধ রাখা হয়েছে। চালকদের অভিযোগ, অনেকক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে একদিকে যেমন মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে দৈনিক আয় কমে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীদের।

সিএনজিচালক নয়ন বলেন, ‘নরসিংদীতে কয়টা পাম্প আছে, একটা পাম্পের মধ্যেও আমরা গ্যাস পাচ্ছি না। কিস্তি দিতে পারছি না, খাইতে পারছি না, আমরা কীভাবে চলবো?’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে এখনও গ্যাসের চাপজনিত সমস্যার সমাধান হয়নি। এর ফলে প্রয়োজন মতো গ্যাস পাচ্ছে না যানবাহনগুলো। এছাড়া গ্যাসের চাপ শূন্যে নেমে দিনে একাধিকবার বন্ধ থাকছে সরবরাহ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাঁচটি ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিন ৫০ হাজার ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। যদিও গ্যাসের চাহিদা প্রায় দ্বিগুণ।

আরও পড়ুন:

ভুক্তভোগীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘১৫ পিএসআই পাওয়ার কথা। কিন্তু ১৫ পিএসআই পাচ্ছি না। আমরা হচ্ছে জিরো থেকে এক, দুই সর্বোচ্চ এইটাই পাচ্ছি, এর বেশি পাচ্ছি না।’

একজন সিএনজিচালক বলেন, ‘১০০-১৫০ টাকার গ্যাস পাইছি, ৪ ঘণ্টা বইসা থাইকা। সকাল ৬:৩০টা বাজে লাগাইয়া এহন দুপুর ১২টা বাজে গ্যাস পাইছি।’

এদিকে কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাতে পারেনি তিতাস কর্তৃপক্ষ।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশল মো. শফিকুল হক বলেন, ‘ন্যাশনাল ইস্যু তো যেটা আছে সেটা তো আছেই। বাট আমাদের পক্ষ থেকে যতটুক সাপোর্ট দেয়া যায় আরকি। ১০০ শতাংশ হবে না সেটাও স্বাভাবিক। কারণ এই সমস্যাটা আর ১-২ দিনে না, আমরা ওই লেভেলে ফিল্ড লেভেলে আরও ১-২ মাস লাগবে যেটা ওনাদের আরেকটু লেভেলে ইমপ্রুভ হইতে।’

সংকট দ্রুত নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন সিএনজি অটোরিকশার চালক, স্টেশন মালিক এবং সাধারণ গ্রাহকরা।

এসএস