ষাটের দশকে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন নির্মিত হবার পর দুই-একটি লোকাল ট্রেন চলাচল করলেও আন্তঃনগর ট্রেন ছিল স্বপ্নের মতো। ২০১৮ সালে একতা ও দ্রুতযান এক্সপ্রেসের মধ্য দিয়ে রাজধানীর সঙ্গে আন্তঃনগর রেল যোগাযোগ শুরু হয়।
রেলওয়ে স্টেশনের অবকাঠামোতে পরিবর্তন হওয়ার পাশাপাশি যোগ হয় ঝকঝকে নতুন কোচসহ আরও তিনটি ট্রেন। ২০২৪ সালে পঞ্চগড়-ঢাকা রেলপথ থেকে ট্রেনের কোচগুলো পাল্টে দেয়া হয় পুরনো ভাঙাচোরা কোচ।
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘ট্রেনের যে শোভন বলেন, স্নিগ্ধা বলেন, সব জায়গায় যে ট্রেনের সিটের অবস্থা ভালো না। সিট কোনোটাতে দেখবেন ভাঙা, কোনো জানালা খোলা যায় না।’
অন্য একজন বলেন, ‘সময়টা সময়ে যায় না। দেখা যায় দুই ঘণ্টা, এক ঘণ্টা লেট হয়ে যায়। আর জার্নি তখন আমরা যে ১০টায় পৌঁছানোর কথা, সে জায়গায় ১১টা, সাড়ে ১১টা বাজে।’
যাত্রীদের অভিযোগ, নিরাপদ বাহন হিসেবে যাতায়াত করলেও এখন তা দুর্ভোগে দাঁড়িয়েছে। নেই কাঙ্ক্ষিত সুযোগ-সুবিধা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নোংরা টয়লেট, পোকামাকড়েই বিরক্ত যাত্রীরা। নতুন কোচের বদলে পুরনো কোচ দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে।
আরও পড়ুন:
যাত্রীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এই কোচগুলো একেবারেই অচল। আমরা বসতে পারি না ঠিকমতো। দেখেন যে উড়ন্ত পোকা কামড় দেয়। নোংরা পরিবেশের ভেতরে আমরা যাতায়াত করতেছি। অনেক ক্ষেত্রেই সিটগুলো খুবই কনজাস্টিং।’
এদিকে পঞ্চগড় থেকে বাংলাবান্ধা পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণের কাজ থেমে গেছে। আলোর মুখ দেখছে না বহুল আলোচিত এই প্রকল্প। পাশাপাশি পঞ্চগড় থেকে খুলনা ও কক্সবাজার পর্যন্ত রেল যোগাযোগও থেমে আছে।
যাত্রীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘কক্সবাজার বা অন্যান্য জায়গায় সম্প্রচারিত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু হচ্ছে না।’
অন্য একজন বলেন, ‘আমরা ইতিপূর্বে শুনেছিলাম যে পঞ্চগড় থেকে খুলনা রুট চালু হবে এবং ঢাকা থেকে ডাইরেক্ট বাংলাবান্ধা চালু হবে। তো এগুলো শুধু স্বপ্নে থেকে গেছে।’
বর্তমানে পঞ্চগড় থেকে ঢাকায় তিনটি, রাজশাহীতে একটি, সান্তাহারে একটি ও পার্বতীপুর পর্যন্ত একটি ট্রেন চলাচল করছে। নতুন কোচ এলেই তা পঞ্চগড়ে সরবরাহ করা হবে বলে জানান রেলওয়ের কর্মকর্তা।’
পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘যাত্রীদের একটু অভিযোগ আছে যে ঢাকার ট্রেনগুলো ময়লা থাকে, আবর্জনা থাকে বা পুরনো ট্রেন। আমাদের নতুন কিছু কোচ আসতেছে, আসছে অলরেডি। আর সেগুলো আমরা আশা করছি, ইনশা আল্লাহ উত্তরাঞ্চলে বা পঞ্চগড়ের জন্য দেবে।’
রাজধানী থেকে দেশের সবচেয়ে দূরবর্তী রেলওয়ে স্টেশনই পঞ্চগড়। কিন্তু বছরের পর বছর অবহেলায় থেকেছে এই রেলপথ। এই রেলপথকে গতিশীল করার পাশাপাশি পঞ্চগড় থেকে বাংলাবান্ধা পর্যন্ত রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণ করা গেলে বদলে যাবে উত্তরের অর্থনীতি, নতুন দিগন্তের সূচনা হবে রেল যোগাযোগে। এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।





