এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে রাসেল শিকদার নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত সোয়াইব ওই এলাকার সেলিম সরদার ও শিমুলি দম্পতির সন্তান।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল সাতটার দিকে বাড়ি থেকে খেলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় শিশু সোয়াইব। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা শিশুটির সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে আবু আলম শিকদারের বসতঘরের পেছনের ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিশুর স্বজনদের অভিযোগ, প্রতিবেশী আবু আলম শিকদারের পরিবারের সঙ্গে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় তাদের কথা কাটাকাটি হয়। ওই বিরোধের জের ধরে আবু আলম ও তার ছেলে রাসেল শিকদার শিশুটিকে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন অভিযুক্ত আবু আলমের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। পরে পুলিশ রাসেল শিকদারকে আটক করে।
আরও পড়ুন:
নিহত শিশুর বাবা সেলিম সরদার বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তাঁর মায়ের সঙ্গে প্রতিবেশী আবু আলমের ঝগড়া হয়। রাতে তার মা বিষয়টি তাকে জানান। শনিবার সকালে তিনি বাজারে গেলে ফিরে এসে সন্তানকে খুঁজে পাননি। পরে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করে আবু আলমের বাড়ির পেছনের ডোবা থেকে তাঁর ছেলের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেন।
সেলিম সরদার বলেন, তার সন্তানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্ত পরিবারের কোনো সদস্য বাড়িতে না থাকায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) শামসুল আরেফীন বলেন, সকালে একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। শিশুটির বাবা জিডি করার পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তল্লাশি চালিয়ে একপর্যায়ে ডোবা থেকে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে রাসেল শিকদার নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।





