দেশের দ্বিতীয় চা অঞ্চল এখন পঞ্চগড়। সমতলের চায়ে ২৬ বছরে উত্থান পতনের নানা ঘটনা ছড়িয়ে এখন চা শিল্পে তৈরি হচ্ছে সমৃদ্ধির গল্প। চলতি মৌসুমে চা পাতার দর ছাড়িয়েছে ৫০ টাকা। ভালো দর পেয়ে নতুন করে বাড়ছে বাগানের পরিধি। বেড়েছে চায়ের চারার কদরও। গড়ে উঠেছে অন্তত পাঁচশ চায়ের নার্সারি।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিরাজোত, লইপাড়া, ডাঙ্গাপাড়াসহ বেশ কিছু গ্রামের মানুষের ভাগ্য বদলেছে চায়ের নার্সারি করে। এসব নার্সারিতে বিনিয়োগ ও শ্রম দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন অনেক যুবক।
তারা জানান, তারা চা চাষ করছেন। তাদের ভালো ফলন হচ্ছে। তবে সরকার যদি চা পাতার দাম নিয়ন্ত্রণে রাখে তাহলে তাদের জন্য আরও ভালো হবে।
আরও পড়ুন:
নার্সারি মালিকরা জানান, বিশেষ কায়দায় বাঁশ খড় দিয়ে মাঁচা তৈরি করে সেই শেডের নিচেই পলিব্যাগে মাটি ভরে চায়ের কান্ড রোপণ করা হয়। প্রায় এক বছর পরিচর্যার পর বিক্রির উপযুক্ত হয় চারা। চারা প্রতি খরচ হয় ৩ থেকে ৪ টাকা। আর বিক্রি করছেন ২০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত। আগে দেশের অন্য প্রান্ত থেকে চায়ের চারা আনতে হলেও এখন পঞ্চগড় থেকেই চারা যাচ্ছে বিভিন্ন স্থানে।
তারা জানান, চারা বিক্রি করে তারা তাদের সংসার চালাচ্ছেন। দামও এখন ভালো পাচ্ছেন তারা।
চা বোর্ড জানায়, সমতলে প্রায় ১১ হাজার একর জমিতে চা চাষ সম্প্রসারণ হয়েছে। গত বছর ৩১ টি কারখানায় চা উৎপাদন হয়েছে ২ কোটি ২ লাখ ৪২ হাজার ৫২ কেজি।
পঞ্চগড় চা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমির হোসেন বলেন, ‘অকশনে উত্তরাঞ্চলের চায়ের মান ভালো হওয়ায় এবং অকশনে ভালো দাম পাওয়া যায়। উত্তরাঞ্চলের চলমান চা কারখানাগুলি ক্ষুদ্রায়তন চা মারালিকদের নিকট থেকে এ বছর প্রায় ৫০ থেকে ৫২ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে সবুজ পাতা ক্রয় করছে। ক্ষুদ্রায়তন চা চাষিরা ন্যায্যমূল্য সবুজ পাতা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন।’
বিটি-২, ২৫, ২৬সহ বিভিন্ন উন্নত জাতের চারা উৎপাদন হচ্ছে সমতলে। একটু সহযোগিতা পেলেই চায়ের নার্সারিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে অর্থনৈতিক জোন। যা দেশের অর্থনীতিতে রাখবে বড় ভূমিকা এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।




