নাগরিক অভিযোগের ডিজিটাল সমাধানে সাড়া দিচ্ছে কুসিক

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নগর ভবন
এখন জনপদে
0

সড়কবাতি নষ্ট, ড্রেনে ময়লা, ভাঙা ফুটপাত কিংবা জলাবদ্ধতা—নগরীর এমন নানা সমস্যার ছবি তুলে এখন সরাসরি অভিযোগ জানানো যাচ্ছে মোবাইল অ্যাপসে। ‘আমার কুমিল্লা সিটি’ নামের এই অ্যাপে এক মাসে জমা পড়েছে সাড়ে চারশোর বেশি অভিযোগ। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে তিনশো অভিযোগের সমাধান করেছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক)। উন্মুক্ত এই অভিযোগ ব্যবস্থায় নাগরিক সেবার পাশাপাশি জবাবদিহি নিশ্চিতেরও সম্ভাবনা দেখছে নগরবাসী।

সড়কে খানাখন্দ, ফুটপাতে ভাঙন, মশার উপদ্রব, ড্রেনে জমা ময়লা কিংবা সড়কবাতি না থাকায় ভোগান্তি। নগরবাসীর এমন শতক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় প্রতিদিনই। আগে এসব সমস্যা জানাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যেতে হতো। যোগাযোগ করেও সুফল না পেয়ে কেউ কেউ তুলে ধরতেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এখন অভিযোগ গ্রহণে যুগোপযোগী পরিবর্তন এনেছে সিটি করপোরেশন। স্মার্টফোনে ছবি তুলে অভিযোগ জানানো যাচ্ছে ‘আমার কুমিল্লা সিটি’ অ্যাপসে।

বিভিন্ন বিষয়ে কুমিল্লাবাসীর অভিযোগগুলো থাকছে উন্মুক্ত। ফলে শুধু অভিযোগকারীই নন, অন্যরাও দেখতে পারছেন সমস্যার বিবরণ এবং সেটি সমাধানে সিটি করপোরেশনের নেয়া পদক্ষেপ। নিয়মিতভাবে অ্যাপটির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে নগরীর সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনেরও জবাবদিহিতা বাড়বে বলে মনে করেন নাগরিকরা।

স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘এই অ্যাপসটির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ তার অভিযোগ, তার মনোবৃত্তি কি এবং কী প্রত্যাশা এই বিষয়গুলো সে প্রকাশ করার জন্য খুব ভালো একটি সময় এবং সুযোগ ব্যবহার করতে পারবে।’

অন্য একজন বলেন, ‘এই অ্যাপটা চালু করার মাধ্যমে আমি দেখেছি যে এরইমধ্যে প্রায় ৪০০ প্লাস অভিযোগ এসেছে, তার মধ্যে প্রায় ২০০ অভিযোগ কিন্তু সমাধান হয়েছে এবং আরও ১৫০ এর ওপরে অভিযোগ চলমান অবস্থায় সমাধানের চেষ্টা চলতেছে।’

আরও পড়ুন:

একমাসে অ্যাপটিতে জমা পড়েছে প্রায় সাড়ে চারশো অভিযোগ। এর মধ্যে সমাধান হয়েছে ২০০টি। অ্যাপটির নির্মাতা জানান, গুগল প্লে স্টোরে ‘আমার কুমিল্লা সিটি’ লিখে সার্চ দিলেই অ্যাপটি পাওয়া যাচ্ছে। শুধু মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে অভিযোগ জানানো যাচ্ছে।

অ্যাপটির নির্মাতা হাসিব মাহমুদ বলেন, ‘সিটি করপোরেশনে আগে কখনো গিয়ে একটা লিখিত অভিযোগ দিয়ে আসলাম, আদৌ কাজটা ফলোআপে আসলো কি না, বারবার বিভিন্ন টেবিল ঘোরা, এই সমস্ত অসুবিধাটা আর থাকছে না। আর এই পুরো সিস্টেমটা কে কখন কোথায় কি করছে এটার একটা প্রোগ্রেসবার, যিনি অভিযোগ করেছেন তার অ্যাকাউন্টে থাকবে।’

কুসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা আশা করছি এটা হয়তো এই ডেভেলপ করতে আরও একমাস সময় লাগবে। এরই মধ্যে আমাদের কর্মকর্তা বা কর্মচারী যারা আছে, সবাইকে ইনস্ট্রাকশন দেয়া হয়েছে, যাতে এই অ্যাপে অভিযোগ দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেটা তাৎক্ষণিক সমাধান করা যায়, যাতে এটা তাৎক্ষণিক সমাধান করে দেয়া হয়।’

অন্য দপ্তরের অভিযোগও বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশা নিধন এবং জলাবদ্ধতা নিরসন, অনুমোদিত নকশায় ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বাসযোগ্য নগরী গড়তে নগরবাসীকেও সহযোগী হবার আহ্বান প্রশাসকের।

আরও পড়ুন:

কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, ‘অনেক সচেতন নাগরিকরা, অনেক ছেলেমেয়েরা বিভিন্নভাবে যেকোনো সমস্যা বিশেষ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আমাদের যে ড্রেইনের স্ল্যাবগুলো হয়তো কোথাও ভেঙে গিয়েছে, এগুলো ছবি তুলে তুলে কোথাও বাল্ব নেই, লাইট ফিউজ হয়ে গিয়েছে এ ধরনের যত সমস্যা আছে উনারা তুলছেন এবং তারা অ্যাপে পাঠাচ্ছেন এবং আমরা সঙ্গে সঙ্গে সমাধান করার চেষ্টা করছি।’

৫৪ বর্গকিলোমিটারের কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকায় ঘনবসতির কারণে সড়ক, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশা ও পানি সরবরাহের মতো সমস্যা বড় চ্যালেঞ্জ। সব সমস্যার সমাধান সম্ভব না হলেও অভিযোগ জানানোর সুযোগ এবং তার বিপরীতে কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ উন্মুক্ত থাকায় তৈরি হচ্ছে জবাবদিহির একটি নতুন ক্ষেত্র।

এসএস