ভোলার সদর উপজেলার রাজাপুরের মেদুয়া কলেজ। চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৫ জন শিক্ষার্থী। যার একজনও পাশ করতে পারেনি। অথচ প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছেন ১১ জন শিক্ষক ও ৮ জন কর্মচারী। শিক্ষার্থীর চেয়ে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা বেশির পরও এমন ফলাফলে অভিভাবকদের অসচেতনতা ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অনীহাকে দায়ী করছেন শিক্ষকরা।
শিক্ষকরা জানান, রেজাল্ট খারাপ হয়েছে। আগামী যাতে ভালো রেজাল্ট করে সেইভাবে চেষ্টা করা হবে। যারা গার্জিয়ানদের সচেতনতা নেই।
একই চিত্র চরফ্যাশন উপজেলার চরমানিকার জালাল আহমেদ কলেজের। প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩ জন। তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। অন্যদিকে, লালমোহন উপজেলার রামাগঞ্জ সেকেন্ডারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকেও ৪ জন অংশ নিয়ে কেউ পাস করেনি। সংশ্লিষ্টদের মতে, ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয় জরুরি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি কমিয়ে পড়াশোনায় মনোযোগী করতে হবে।
ভোলা আলতাজের রহমান কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ জাহানজেব আলম টিটব বলেন, ‘পরম বিপর্যয় যেটা হইছে, ফল বিপর্যয়টার কারণ হলো, শিক্ষার্থীরা স্মার্ট মোবাইলের প্রতি আসক্ত ছিলো এবং আরেকটা হলো শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ে যায়। এক মাস দুই মাস পরে আর ওই শিক্ষার্থীদেরকে পাওয়া যায় না।’
আরও পড়ুন:
জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলার ৫৯টি কলেজ থেকে এইচএসসিতে অংশ নেয় ৯ হাজার ৫৩৯ জন, যার মধ্যে পাস করেছে ৩ হাজার ৭৭২, অকৃতকার্য হয়েছে ৫ হাজার ৭৬৭ জন। জেলায় পাসের হার মাত্র ৩৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ছয় জেলার মধ্যে পাসের হারে ভোলার অবস্থান পঞ্চম, আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৯ জন। যার মধ্যে ১৯ জন ছাত্র ও ৬০ জন ছাত্রী।
শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি জেলার সামগ্রিক শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। ভবিষ্যতে ভালো ফলাফল নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান কার্যক্রম ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
ভোলা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘যদি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বসে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমিটির সঙ্গে বসে, কোথায় তাদের দুর্বলতা, আসলে কেন পাশ করতে পারছে না, সে বিষয়গুলো তারা জেনে আমাদেরকে জানাবে। সে প্রেক্ষিতে আমরা ব্যবস্থা নেব। আমরা ভোলার সমগ্র বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নিয়ে আমরা শিক্ষক সমাবেশ করব। তাদের সঙ্গে আমরা আলাপ আলোচনা করে দেখব আসলে আমাদের কোন জায়গাগুলোতে ঘাটতি আছে, সেই জায়গাগুলো আমরা ডেভলপ করার চেষ্টা করব।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এমন ফলাফলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহল। ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ চিহ্নিত করে পাঠদানের মান উন্নয়ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করার দাবি তাদের।





