টাঙ্গাইলের গোপালপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবছর এইচএসসিতে অংশ নিয়েছিলো মাত্র ৫ শিক্ষার্থী। পাস করেনি তাদের একজনও। অথচ এই ৫ শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছে ২০ জন শিক্ষক। সম্প্রতি দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ শ্রেণিকক্ষে ঝুলছে তালা। ভেতরে পড়ে নষ্ট হচ্ছে ব্যবহারিক যন্ত্রপাতি।
প্রতিষ্ঠান প্রধানের দাবি, পড়াশোনা ছাড়া কোন শিক্ষার্থী যেন পাস করতে না পারে- সেভাবেই পরীক্ষা নেন তারা। এতে কোনো পরীক্ষার্থী পাস না করলেও তাদের কিছু যায় আসে না।
টাঙ্গাইল-গোপালপুর গোপালপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ শাহনাজ আক্তার বলেন, ‘আমার যে পাঁচজন স্টুডেন্টের মধ্যে একজনও যে পাশ করেনি। এতে আমার আফসোস নেই। কারণ তাদের ওই কোয়ালিটি নেই, তাই তারা পাশ করেনি।’
এছাড়াও টাঙ্গাইলের আরো ৫ প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষা দিয়ে ২০ জনের একজনও পাশ করেনি। এরমধ্যে গোপালপুরের খন্দকার আসাদুজ্জামান অ্যাকাডেমি থেকে ৭ জন, শিমলা পাবলিক উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১ জন, সখিপুরের সূর্য তরুণ শিক্ষাঙ্গন আবাসিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৪ জন, ইসলামাবাদ দারুস সুন্নাহ আলিম মাদরাসা থেকে ৭ জন এবং অলোয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন।
অকৃতকার্যের কারণ হিসাবে শিক্ষকদের দায়িত্ব অবহেলা, নিয়মিত ক্লাস না নেয়াকে দোষারোপ করছেন শিক্ষার্থীরা। আর অভিভাবকরা বলছেন, একই স্থানে একাধিক প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষকদের গাফিলতির কারনেই ফলাফলের এই দশা।
শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের নিয়মিত ক্লাস হয় না। সকাল থেকে কলেজে এসে বসে থাকলেও তাদের ক্লাস নেয়া হয় না। ফলে এটি তাদের ফেল করার অন্যতম কারণ।
আরও পড়ুন:
অভিভাবকরা জানান, কলেজে শিক্ষার্থীদের ঠিকমতো পাঠদান করানো হয় না। যেহেতু কলেজগুলো এমপিওভুক্ত। শিক্ষার্থীদের না পড়ালেও বেতন পাওয়া যায়। তাই শিক্ষকরা আন্তরিকতার সঙ্গে পড়ান না।
অভিযোগের দায় পুরোপুরি নিতে নারাজ প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষকরা। শতভাগ শিক্ষার্থী ফেলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অনীহা, অনিয়মিত উপস্থিতি ও প্রস্তুতির ঘাটতিই এমন ফলাফলের কারণ।
একাধিক প্রতিষ্ঠান প্রধান জানান, ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে. যার জন্য তারা দুঃখ প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে তারা জানান পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী নয় শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যে রয়েছে সচেতনতার অভাব।
শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান ও তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিলে শিক্ষার মান ফিরবে বলে মনে করেন এ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধি অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘যারা এখানে জব করছেন, যাদের এটা তত্ত্বাবধান করার কথা তারা কেউই দায়িত্ব পালন করছে না। আমার মনে হয় সরকারের উচিত এদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া।’
গতানুগতিক এবং দায়সারা বক্তব্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার।
টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানগুলিকে শোকজ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। কারণ দর্শানোর জবাব পাওয়ার পর তারা যেন আমাকে একটি প্রতিবেদন প্রদান করেন তা জানানো হয়েছে। সেই প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রচলিত যে বিধি-বিধান আছে তার আলোকে ব্যবস্থা নিব।’
টাঙ্গাইলে ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় শিক্ষকদের দায়িত্ব পালন নিয়ে সবার মনে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। এমন ফলাফল বিপর্যয়ের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।





