সিলেট নগরীর এয়ারপোর্ট রোড। কর্মব্যস্ত দিন শেষে ঘরে ফেরার পথে যানজটে আটকে থাকেন হাজারো মানুষ। এই সড়ক ছাড়াও আম্বরখানা, জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার ও চৌহাট্টাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতেও প্রতিদিন একই চিত্র। এতে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বেড়াতে আসা পর্যটকরাও। যানজটের অজুহাতে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে পরিবহনে।
নগরবাসীরা জানান, তাদের চলাফেরা করতে কষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে মহিলাদের জন্য বেশি ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। অনেক স্টুডেন্টদের পরীক্ষা থাকে, অনেক সময় তারা ঠিক সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড এবং ফুটপাত দখলের কারনে সিলেটে প্রতিনিয়ত বাড়ছে যানজট। নাগরিক প্রতিনিধিদের মতে, এ অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিবহন পরিকল্পনা, প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং হকারমুক্ত ফুটপাত।
আরও পড়ুন:
সিলেট সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলনের আহ্বায়ক আব্দুল করিম কিম বলেন, ‘ঢাকাতেও ডিজিটালাইজেশন করা হয়েছে, মনিটরিং করা হচ্ছে, সিলেটে কিন্তু এগুলো করার প্রয়োজন, বিশেষ করে পার্কিংসহ বিভিন্ন কারণে যে মনিটরিং করা সম্ভব হলে এগুলো হয়তো নিয়ন্ত্রণ করা যেত।’
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড উচ্ছেদ, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং চালকদের সচেতন করার উদ্যোগের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার কথাও বলছেন তারা।
সিলেট মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সুদীপ্ত রায় বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি শহরে যেন তীব্র যানজট না থাকে, সহনশীল পর্যায়ে মানুষজন যেন মুভমেন্ট করতে পারে, সেটা আমাদের লক্ষ্য এবং আমরা বেশ কিছু উদ্যোগও হাতে নিয়েছি।’
সিলেট সিটি করপোরেশন প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘শহরে অনেকগুলো অটো যেগুলো এখন অবৈধভাবে চলাচল করছে, এগুলোকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করবো।’
পর্যটন অধ্যুষিত সিলেটের মানুষ যখন যানজটে জিম্মি তখন কেবল সাময়িক অভিযান নয়, প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা- এমনটাই দাবি সিলেটের সচেতন মহলের।





