বৃন্দাবন কলেজে আদায় হচ্ছে অর্থ; মিলছে না প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা

হবিগঞ্জ
হবিগঞ্জ বিন্দাবন সরকারি কলেজ
শিক্ষা , ক্যাম্পাস
এখন জনপদে
0

হবিগঞ্জের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বৃন্দাবন সরকারি কলেজ। একাদশ থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত এই কলেজে পড়াশোনা করছেন ১৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিবছর ভর্তি ও বিভিন্ন খাতে বিপুল অর্থ আদায় হলেও পড়াশোনার অনুকূল পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা মিলছে না। এমনকি বিভিন্ন খাতে আদায় ও ব্যয়ের হিসাব নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। অনুসন্ধানে বেশ কয়েকটি খাতে অর্থ আদায় ও ব্যয়ের মধ্যে অসামঞ্জস্যের তথ্য পেয়েছে এখন টেলিভিশন।

হবিগঞ্জ বিন্দাবন সরকারি কলেজে বিভিন্ন পর্যায়ে পড়াশোনা করছে প্রায় ১৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। প্রতিবছর ভর্তি ও বিভিন্ন নামে তাদের কাছ থেকে নেওয়া টাকার পরিমাণ ১ কোটিও বেশি। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এসব খাতে প্রতিবছর টাকা নেয়া হলেও বেশিরভাগ কার্যক্রমের অস্তিত্ব নেই অথবা কার্যক্রম সীমিত। বিশেষ করে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির সময় ৩০ টাকার অধিভুক্তি ফি। এই ফি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কেন নেয়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়।।

শিক্ষার্থীরা জানান, বার্ষিক মিলাদের নামে আমাদের কাছ থেকে একটা টাকা নেয়া হয়েছে। তাছাড়া উন্নয়নের নামে প্রতিবছর অনেক টাকা নেয়া হয় বলেন তারা।

তবে টাকা নেয়া হলেও নিয়মিত ও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীরা আরও জানান, টাকা নেয়া হলেও কোনো রকমের সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না বলেন তারা।

আরও পড়ুন

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কলেজের বিভিন্ন খাতের ব্যাংক হিসাব ও ব্যয়ের তথ্যও খতিয়ে দেখা হয়েছে। এসব হিসাব পর্যালোচনায় কয়েকটি খাতে জমা ও ব্যয়ের তথ্যে অসামঞ্জস্যের চিত্র পাওয়া গেছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কলেজের বিভিন্ন খাতের ব্যাংক হিসাব ও ব্যয়ের তথ্য ও খতিয়ে দেখা হয়েছে। এসব হিসাব পর্যালোচনা করে কয়েকটি খাতে জমা ও ব্যয়ের তত্ত্বে অসঙ্গঞ্জস্যের চিত্র পাওয়া গেছে। এছাড়া অন্যান্য কয়েকটি খাতের কার্যক্রম দৃশ্যমান না থাকলেও ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলনের তথ্য রয়েছে। পাশাপাশি একই ব্যয় একাধিক খাতে দেখানোর তথ্যও পাওয়া গেছে। আর বিগত বছরগুলোর বেঁচে যাওয়া অর্থের কোনো হদিস নেই কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে

হবিগঞ্জের বৃন্দাবন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ দেওয়ান জামাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘নবীন বরণের জন্য একটা সাংস্কৃতিক কমিটি আছে। এই কমিটিতে যা খরচ হয়, ওই ভাউচারে তারা কমিটির মেম্বাররা সিগনেচার করেন। আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে এটা যাচাই করি। যাচাই করার পরে তারপর আমরা বিল সিগনেচার। এবং ওইখানে এককভাবে কেউ নয় ছয় করা আসলেই কোনো সুযোগ। এটা একটা ভ্রান্ত ধারণা।’

১৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন খাতে আদায় হচ্ছে- এক কোটি টাকারও বেশি পরিমাণ অর্থ। কিন্তু সেই অর্থের ব্যবহার, ব্যাংক হিসাবে জমা এবং বিভিন্ন খাতে দেখানো ব্যয়ের মধ্যে যে অসামঞ্জস্যের অভিযোগ উঠেছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশের দাবি শিক্ষার্থীদের।

জেআর