ভোট উৎসবের যে আমেজ পুরো দেশকে ছুঁয়েছে সেই আমেজ এসে হানা দিয়েছে মুন্সিগঞ্জের চর নুরু বয়াতির কাছে। ভোট উৎসবে শামিল হতে শুধু বয়াতি নয়, আগামীকালের ভোরের অপেক্ষায় পুরো চরের মানুষ।
চরের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আনন্দ উৎসবের মধ্যে দিয়ে ভোটের দিন পার করবেন তারা। ট্রলার আসবে, ট্রলারে করে তারা সবাই ভোট দিতে যাবেন। ইদের মতো আনন্দ নিয়ে তারা নির্বাচনে ভোট দিতে যাবেন বলে জানান।
গেলো তিনটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিলো যে মানুষগুলোর সেসব মানুষের নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বুনছে ব্যালটের মধ্যে দিয়ে। তাই কেন্দ্রে যাবার প্রস্তুতিও নিচ্ছে আগেভাগে। প্রস্তুতি নিচ্ছে ফসলি জমি থেকে পাঠশালা।
মুখিয়ে থাকলেও ভোট নিয়ে শঙ্কাও আছে অনেকের। তবে আগের মতো কেউ ব্যালট ছিনতাই করতে আসলে প্রতিরোধে কথাও বলছেন ভোটাররা।
আরও পড়ুন:
চরের একজন কৃষক বলেন, ‘১৭ বছরে এমন সুযোগ পাইনি। সুযোগ পেয়েছি ভোট দিতে যাবো। দুটি নদী পার হয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে, তাও আমরা সবাই ভোট দিতে যাবো।’
স্থানীয়রা জানান, সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। ভোটকেন্দ্রে যেন কোনো অনিয়ম না হয় সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
ভোট নিয়ে মানুষের বিপুল আগ্রহের বিপরীতে নানা শঙ্কার কথাও জানাচ্ছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী। ড. রওনক জাহানের মত, ফল যাই হোক দলগুলো যদি সেটি মেনে না নেয় তাহলে নতুন করে সংকট তৈরি হবে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক রওনক জাহান বলেন, ‘দুই দলই বলছে সরকার এবং ইসি অন্য দলে হয়ে কাজ করছে। এ ধরনের ব্যবহার তারা আগেই শুরু করেছে। এখন দেখতে হবে নির্বাচনের পরে তারা কী করে। তারা দুই দলই যদি ফলকে মেনে নেন, যদি বলেন নির্বাচন সঠিক হয়েছে, তাহলে আমার মনে হয় মানুষের মনে আস্থা হবে।’
১২ ফেব্রুয়ারির এ ভোটকে ইতিহাসের সন্ধিক্ষণও বলছেন বিশ্লেষকরা। ভোটারদের উৎসবের আমেজ বাংলাদেশকে পথ দেখাবে বলেও মত তাদের।





