ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন কাল: ব্যালট বিপ্লবের প্রত্যাশায় ভোটাররা

মুন্সীগঞ্জ
মুন্সিগেঞ্জের বিভিন্ন পেশার বাসিন্দারা
রাজনীতি , দেশে এখন
এখন জনপদে
0

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামীকাল। দীর্ঘ দেড় দশক ভোট বঞ্চিত ভোটারেরা ব্যালট বিপ্লব ঘটাতে মুখিয়ে আছেন। নির্বাচন নিয়ে নানা শঙ্কার কথা প্রকাশ করলেও ভোট ডাকাতি ঠেকাতে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথাও বলছেন মুন্সিগঞ্জের ভোটাররা। বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে হতে যাওয়া ভোটের ফল যাই হোক দলগুলো ফল মেনে না নিলে নতুন করে সংকট তৈরি হবে বলে মত বিশ্লেষকদের।

ভোট উৎসবের যে আমেজ পুরো দেশকে ছুঁয়েছে সেই আমেজ এসে হানা দিয়েছে মুন্সিগঞ্জের চর নুরু বয়াতির কাছে। ভোট উৎসবে শামিল হতে শুধু বয়াতি নয়, আগামীকালের ভোরের অপেক্ষায় পুরো চরের মানুষ।

চরের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আনন্দ উৎসবের মধ্যে দিয়ে ভোটের দিন পার করবেন তারা। ট্রলার আসবে, ট্রলারে করে তারা সবাই ভোট দিতে যাবেন। ইদের মতো আনন্দ নিয়ে তারা নির্বাচনে ভোট দিতে যাবেন বলে জানান।

গেলো তিনটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিলো যে মানুষগুলোর সেসব মানুষের নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বুনছে ব্যালটের মধ্যে দিয়ে। তাই কেন্দ্রে যাবার প্রস্তুতিও নিচ্ছে আগেভাগে। প্রস্তুতি নিচ্ছে ফসলি জমি থেকে পাঠশালা।

মুখিয়ে থাকলেও ভোট নিয়ে শঙ্কাও আছে অনেকের। তবে আগের মতো কেউ ব্যালট ছিনতাই করতে আসলে প্রতিরোধে কথাও বলছেন ভোটাররা।

আরও পড়ুন:

চরের একজন কৃষক বলেন, ‘১৭ বছরে এমন সুযোগ পাইনি। সুযোগ পেয়েছি ভোট দিতে যাবো। দুটি নদী পার হয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে, তাও আমরা সবাই ভোট দিতে যাবো।’

স্থানীয়রা জানান, সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। ভোটকেন্দ্রে যেন কোনো অনিয়ম না হয় সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

ভোট নিয়ে মানুষের বিপুল আগ্রহের বিপরীতে নানা শঙ্কার কথাও জানাচ্ছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী। ড. রওনক জাহানের মত, ফল যাই হোক দলগুলো যদি সেটি মেনে না নেয় তাহলে নতুন করে সংকট তৈরি হবে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক রওনক জাহান বলেন, ‘দুই দলই বলছে সরকার এবং ইসি অন্য দলে হয়ে কাজ করছে। এ ধরনের ব্যবহার তারা আগেই শুরু করেছে। এখন দেখতে হবে নির্বাচনের পরে তারা কী করে। তারা দুই দলই যদি ফলকে মেনে নেন, যদি বলেন নির্বাচন সঠিক হয়েছে, তাহলে আমার মনে হয় মানুষের মনে আস্থা হবে।’

১২ ফেব্রুয়ারির এ ভোটকে ইতিহাসের সন্ধিক্ষণও বলছেন বিশ্লেষকরা। ভোটারদের উৎসবের আমেজ বাংলাদেশকে পথ দেখাবে বলেও মত তাদের।

এফএস