পুলিশ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, ঘরছাড়া পরিবার

নোয়াখালী
হাতিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র
এখন জনপদে
অপরাধ
0

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে (১২) একাধিকবার ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েকমাস আগে এই ঘটনা ঘটলেও ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করে এর কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান তারা। এতে ভুক্তভোগীর পরিবার প্রায় চার মাস হলে নিজেদের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন কিশোরীর মা।

গতকাল (শনিবার, ১৩ জুন) ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার মায়ের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণসহ একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলমকে জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনের সংযুক্ত করা হয়েছে।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর মা ও ভাই জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের মেসে রান্নাবান্নার কাজ করার সুবাদে কিশোরীও সেখানে মাঝেমধ্যে যাতায়াত করতো। ভুক্তভোগী কিশোরী জানায়, সে যখন স্কুলে বা বিকেলে দোকানে যেত, তখন খোরশেদ আলম তদন্ত কেন্দ্রের পাশের রাস্তার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে প্রায়ই বাসার তৃতীয় তলার ব্যালকনি থেকে ইশারায় ডাকতেন। প্রথম দিকে ভুক্তভোগী ভয়ে যেত না। পরবর্তীতে বাসার ঘর ঝাড়ু দেয়া, কাপড় ধোয়া এবং বিছানা ঠিক করার অজুহাতে জোরপূর্বক তাকে ডেকে নেয়া হতো।

আরও পড়ুন:

কিশোরীর দাবি, বাসায় ডেকে নিয়ে খোরশেদ আলম তাকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। কিশোরী এতে বাধা দিলে তাকে ও তার মাকে একেবারে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হতো বলে দাবি করেন তিনি।

লোকলজ্জা ও সামাজিক মানসম্মানের ভয়ে ভুক্তভোগী কিশোরী প্রথমে বিষয়টি কাউকে জানাননি উল্লেখ করে জানান, গত ৫ জানুয়ারি বিকেলে কিশোরীর মা খোরশেদ আলমের বাসার দরজার সামনে গিয়ে ভুক্তভোগীকে ডাকলে, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা তাকে ধমক দিয়ে বাথরুমে লুকিয়ে থাকতে বাধ্য করেন এবং তার মাকে মিথ্যা কথা বলে বিদায় করে দেন। পরবর্তীতে রাতে মা তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করলে কিশোরী সব ঘটনা খুলে বলে।

ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বলেন, ‘আমার মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণের বিষয়টি আমরা পুলিশের হাতিয়া সার্কেল কর্মকর্তাকে জানিয়েছিলাম। আমরা এ বিষয়ে উনার কাছে লিখিত জবানবন্দিও দিয়েছি। কিন্তু তিনি টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিয়েছেন। স্থানীয় রাকিব ও স্বর্ণকার কবির নামে দুইজন পুলিশের পক্ষ নিয়ে আমাদের থেকে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছিল। আমরা এখন ভয়ে আমাদের নিজেদের বাড়িতে যেতে পারি না। গত চার মাস যাবত আমরা পালিয়ে বেড়াচ্ছি।’

আরও পড়ুন:

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, ‘অনেক আগে এ ধরনের একটি অভিযোগ উঠেছিল। তখন এই অভিযোগের ভিত্তিতে হাতিয়া সার্কেল কর্মকর্তা একটি তদন্ত করেছিলেন। তদন্তে এর সত্যতা মেলেনি বলে জানতে পেরেছি। কিন্তু আজ আবার এই ধরনের একটি ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তবে এ বিষয়ে বর্তমানে কোনো লিখিত কিংবা মৌখিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী কিশোরী কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো যোগাযোগ করা হয়নি পুলিশের সঙ্গে।’

এসএস